সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

পিটিয়ে ছাত্র হত্যায় বিক্ষোভে উত্তাল বুয়েটঃ শিক্ষার্থীদের ৮ দপা দাবি

  • সময় মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায় তাকে পেটানোর পর চ্যাংদোলা করে নিয়ে যান কয়েকজন। পেছনে ছিলেন আরও কয়েকজন। ঢাবিতে বিক্ষোভ

ছাত্রলীগের ১১ নেতা-কর্মী বহিষ্কার, ৯ জন আটক, ভিডিও ফুটেজে হত্যাকারীরা চিহ্নিত, শিক্ষার্থীদের ৮ দপা দাবি

আলোকিত ডেস্কঃ

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার দিবাগত গভীর রাতে হত্যার পর তার মৃতদেহ ফেলে রাখা হয় হলের সিঁড়িতে। ভিডিও ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে পুলিশ। এরপরই গ্রেফতার করা হয়েছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের ৯ নেতা-কর্মীকে। নির্মম এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের ১১ নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল-নাহিয়ান খান বলেন, ‘আমরা যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, সেই তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ডের সঙ্গে ১১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। তাদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ ২১ বছর বয়সী আবরার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ছিলেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে সন্তানের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করছিলেন বাবা বরকত উল্লাহ। বুক চাপড়িয়ে বলছিলেন, ‘আমার এ কী হলো? আমার নিরীহ ছেলেটাকে পিটিয়ে ওরা মেরে ফেলল। যারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মারল, তাঁদের আমি ফাঁসি চাই।’

নির্মম এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তেঁতে উঠছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। গতকাল দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। নিহতের সহপাঠী ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেসবুকে পোস্টের কারণে তাকে শিবির বলে সন্দেহ করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সন্দেহ থেকেই আবরারকে মারধর করলে তার মৃত্যু হয়। শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরা জানান, রবিবার সকালে কুষ্টিয়ার নিজ বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন আবরার ফাহাদ। শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি। সন্ধ্যার পরপরই তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। ফোনে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে বিভিন্ন পোস্ট ও মেসেজ খুঁজে দেখে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এর পরই তাকে নির্মমভাবে পেটানো শুরু করে তারা। আবরারের এক সহপাঠী ও রুমমেট বলেন, ‘আমি টিউশনি শেষে রাত ৯টার দিকে কক্ষে আসি। তখন আবরার কক্ষে ছিল না। অন্য রুমমেটদের কাছ থেকে জানতে পারি, আমাদের বর্ষের কয়েকজনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে গেছে। পরে রাত আড়াইটার দিকে চারতলায় আরাফাত নামের একজন এসে আমাকে সিঁড়ির দিকে যেতে বলে। আমি সিঁড়ির দিকে গিয়ে দেখি, একটা তোশকের ওপর আবরারের লাশ পড়ে আছে। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’ লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামাল হোসাইন বলেন, ‘হল প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে এসে ছেলেটির লাশ দেখতে পাই। পরে তা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।’ নিহতের ফুফাতো ভাই আবু তালহা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আবরার ফাহাদের নিহত হওয়ার সংবাদ শুনে আমরা ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে গিয়ে নিহত আবরারকে দেখি। তার মাথা থেকে শুরু করে পায়ের তলা পর্যন্ত পেটানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপ-দফতর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকাল। এ ছাড়া কক্ষটিতে চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী থাকেন, যিনি দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে অমিত, মুজতাবা, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে দ্বিতীয় দফায় ওই কক্ষে এসে আবরারকে পেটায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী বলে জানা গেছে।

পিটিয়ে মারার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ : গতকাল দুপুরে শেরেবাংলা হলের সামনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হতে পেরেছি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবরারের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার গোটা শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। ব্যথা এবং রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বাঁশ ও ক্রিকেটের স্টাম্পজাতীয় বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাত, পা ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল।’আটক ৯ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী : চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন গত সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে নিহতের বাবা বরকতউল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ছাড়া আরও অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া নয়জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আটকরা হলো বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতাবা রাফিদ, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ ওরফে সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার এবং গ্রন্থ ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্সী।

আবরারের বাড়িতে শোকের মাতম : আমাদের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, আবরার ফাহাদের কুষ্টিয়া শহরের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদ সড়কের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলের মৃত্যুর খবরে মা রোকেয়া খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরাসহ প্রতিবেশীরাও ভেজা চোখে এই হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছেন। নিহত আবরার ব্র্যাকের সাবেক কর্মকর্তা বরকতউল্লাহর বড় ছেলে। এলাকাবাসী ও আবরারের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্কুলজীবন থেকেই তিনি মেধাবী। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। নিহত আবরার ফাহাদের ভাই ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবরার ফায়াজ বলেন, ‘সামনে পরীক্ষা তাই ভাইয়া (আবরার ফাহাদ) রবিবারই বাড়ি থেকে বুয়েটে আসেন। সকাল ১০টায় বাবার (বরকতউল্লাহ) কাছে ফোন করেন ভাইয়ার এক রুমমেট। প্রথমে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানালেও কিছুক্ষণ পরে ফোন দিয়ে তার মৃত্যুর খবর দেন তিনি।’

সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গড়িমসি : হত্যার ঘটনায় হল প্রশাসন সিসিটিভির ফুটেজ দেখাতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার ও হলের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরা। তবে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও শিক্ষার্থীদের ফুটেজ দেখানো হয়নি। পরে ফুটেজ দেখানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হলে প্রাধ্যক্ষ অফিস থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর তা দেখানোর কথা বলা হয়।

প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা : আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল উত্তাল ছিল বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বুয়েট পূজার ছুটিতে বন্ধ থাকলেও হলের শিক্ষার্থীরা ছিলেন প্রতিবাদে মুখর। ঢাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হয়েছে বিক্ষোভ। বৃষ্টিতে ভিজে মুহুর্মুহু স্লোগানে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় পলাশীর মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। বুয়েটের প্রধান ফটক ছিল তালাবদ্ধ। পাশের পকেটগেট দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ঢাবি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বুয়েট ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নূর। এ সময় ভিপি নুরুল হক বলেন, ‘আবরার ভারতের সঙ্গে সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ায় তাকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রাতভর পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। ছাত্রলীগকে এখন ছাত্র সংগঠন বলতে লজ্জা হয়। কেননা একজন ছাত্রকে কীভাবে আরেকজন ছাত্র মেরে ফেলতে পারে!’ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। একই সময় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ মিছিল ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে বুয়েট ক্যাম্পাস হয়ে আবার ঢাবি ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। বিকালে আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে মিছিল করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল । মিছিলটি টিএসসি থেকে ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটও। জোট এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ও ৯ অক্টোবর একই দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভের ঘোষণাও দেওয়া হয়। হত্যার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়েছে বিক্ষোভ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, আবরার হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ সময় যানজটের সৃষ্টি হলে আধা ঘণ্টা পরে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, আবরার হত্যার বিচার দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটের তদন্ত কমিটি : আবরার নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ অবরুদ্ধ : আবরার হত্যার পুরো সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গতকাল সন্ধ্যায় শেরেবাংলা হলের সহকারী প্রভোস্ট আবদুল্লাহ আদনানের কক্ষ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই কক্ষে আটকা পড়েন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ও আবদুল বাতেন প্রমুখ। যথাযথ তদন্তের আশ্বাসের ভিত্তিতে গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় এ অবরুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটে।

১১ নেতা-কর্মী বহিষ্কার : আবরার হত্যাকান্ডে সংগঠনের ১১ নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে ছাত্রলীগ। তাদের সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল-নাহিয়ান খান বলেন, ‘আমরা যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, সেই তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ডের সঙ্গে ১১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। তাদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে তদন্ত করে যদি এ ঘটনার সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বহিষ্কৃতরা হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসীম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জীয়ন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বী তানিম ও মুজাহিদুর রহমান।

বুয়েটে ফাহাদের জানাজা : গতকাল রাত দশটার দিকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরার ফাহাদের জানাজা হয়। পরে আবরার ফাহাদের মরদেহ নিয়ে লাশবাহী গাড়ি কুষ্টিয়ায় নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

খুনিদের ফাঁসি চাইলেন বাবা : রাত সাড়ে নয়টার পর আবরার ফাহাদের লাশ নেওয়া হয় বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে। লাশ আনার খবর পেয়ে মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকেন আবরারের বন্ধু, সহপাঠী ও বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। ছিলেন আবরারের বাবাও বরকত উল্লাহ। প্রিয় সন্তানের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক। তার মোবাইল ফোনে কল আসে। তিনি কল ধরে কেঁদে ওঠেন। এরপর অসহায় বাবার আর্তনাদ, ‘আমার এ কী হলো?

আমার নিরীহ ছেলেটাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। যারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মারল, তাদের আমি ফাঁসি চাই।’ তিনি এ সময় বলেন, ‘কখনো কল্পনাও করিনি আমার ছেলের এমন পরিণতি হবে।

আমার ছেলে হত্যাকান্ডের শিকার হবে। আমি করতাম আওয়ামী লীগ। আমার বাবাও আওয়ামী লীগ করেন। আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করত না।’ ছেলে আবরারের সঙ্গে বাবা বরকত উল্লাহর শেষ কথা হয় মুঠোফোনে। বরকত উল্লাহ বললেন, ‘আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল দেশের সেবা করবে। লেখা পড়া শেষ করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আবার দেশে ফিরে আসবে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares