সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

সৈকতে ঝাউগাছ ও প্লট বিক্রিঃ আঙুল ফুলে কলাগাছ ওয়াচার মোস্তাক সিন্ডিকেট

  • সময় রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ক্রাইম রিপোর্টঃ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কুতুবদিয়া পাড়া পয়েন্টে সৈকত ও ঝাউগাছ খেকো মোস্তাক সিন্ডিকেটের থাবা এখনো থামেনি। এক দশকের বেশি সময় এই মোস্তাক সিন্ডিকেটটি সৈকতে প্লট বানিয়ে বিক্রি ও ঝাউগাছ সাবাড় করে আসছে। এভাবে মোস্তাকসহ সিন্ডিকেটের আরো কয়েকজন ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেছে। নির্বিচারে ঝাউগাছ সাবাড় ও সৈকত গিলে খেতে খেতে সৈকত মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে এই মোস্তাক সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে এই লোপাটযজ্ঞ চললেও বরাবরই নীরব থেকে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে মোস্তাক সিন্ডিকেট।

বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক দশক ধরে বনবিভাগের ওয়াচার হিসেবে সৈকতের ঝাউবাগান পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে কুতুবদিয়া পাড়ার মোস্তাক আহামদ। তার সাথে বিভিন্ন সময় আরো কয়েকজন স্থানীয় লোক ওয়াচারের হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এসব ওয়াচার ও বনবিভাগের কস্তুরাঘাট বনবিটের বনপ্রহরীদের সাথে সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের ঝাউগাছ সাবাড় ও প্লট বানিয়ে সৈকত বিক্রি করে আসছে মোস্তাক আহমদ। এই সিন্ডিকেটকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছে কক্সবাজার শহর বনবিটের তৎকালীন কর্মচারি আবু শামা। এই এভাবে ঝাউগাছ সাবাড় ও সৈকতকে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে বিপুল টাকা কামিয়েছেন ওয়াচার মোস্তাক আহমদ, তৎকালীন বনবিট কর্মচারি আবু শামা ও কুতুবদিয়া পাড়ার তৎকালীন ওয়াচার বাবুল। এই সিন্ডিকেট কর্তৃক নির্বিচারে ঝাউগাছ সাবাড় করার কারণে কুতুবদিয়াপাড়া পয়েন্টের অধিকাংশ ঝাউগাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দখল হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ সৈকত।

জানা গেছে, গণমাধ্যমে লেখালেখি ও সুশীর সমাজের চাপে মুখে বিভিন্ন সময় ওয়াচার মোস্তাক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরব হতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা ছিলো লোক দেখানো। সর্বশেষ ২০১৭ সালে একবার অভিযান চালিয়ে কিছু প্লট দখলমুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও দমেনি ওই চক্র। সেই থেকে লাগাতার প্লট বিক্রি ও ঝাউগাছ সাবাড় করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিপুল গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এসব সাবাড় করার পিছনে জড়িত ‘ওয়াচার সিন্ডিকেট’। এই সিন্ডিকেটটি রক্ষক হলেও এরাই করেছে ঝাউগাছ ভক্ষণ। তেমনিভাবে সৈকতকে প্লট বানিয়ে বিক্রি করেছেনও এই সিন্ডিকেট। নেপথ্যে থেকে এই সিন্ডিকেটকে পরিচালনা করেছেন শহর বনবিটের তৎকালীন কর্মচারী আবুশামাসহ বিভিন্ন সময় দায়িত্ব থাকা বিট কর্মকর্তারা। ঝাউগাছ ও প্লট বিক্রি করে আবু শামা ও ওয়াচার সিন্ডিকেটের মুলহোতা মোস্তাকসহ অন্যরা বিপুল টাকা মালিক হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, মোস্তাকের নেতৃত্বাধীন ওয়াচার সিন্ডিকেট এখনো সমানতালের ঝাউগাছ সাবাড় ও প্লট বিক্রি করছে। রাতের আঁধারে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মোস্তাক ও লোকজন প্রায় সময় গাছ কেনে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তারা সৈকতের কবিতা চত্বর, ডায়বেটিক পয়েন্ট ও বিস্তীর্ণ কুতুবদিয়া পয়েন্টের বিপুল ঝাউগাছ উজাড় করে ফেলেছে। অন্যদিকে ঝাউগাছ থেকে খালি করা জায়গাগুলোসহ অন্যান্য খালি জায়গাগুলো প্লট বানিয়ে প্রকাশ্যে দর কষাকষির মাধ্যমে বিক্রি করে দিচ্ছে। সম্প্রতি কয়েক মাসে এভাবে ২০টি বেশি প্লট বিক্রি করেছে মোস্তাকের নেতৃত্বাধীন ওয়ারচার সিন্ডিকেট। প্রতিটি প্লট বিক্রি করছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। সর্বশেষ কুতুবদিয়া পাড়ার নাসির বহদ্দার, রহিম, সেলিম, রুবেল, কিজান, নাসির, নূর কাদের, এরশাদসহ আরো কয়েকজনকে বিক্রি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি প্লট। এসব প্লট বিক্রি করে ১০ টাকা বেশি টাকা পেয়েছে মোস্তাক ও তার লোকজন। কিনে নিয়ে এসব প্লট দখল করে ঘেরাও দিয়ে সেখানে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সময়ে যে সব প্লট বিক্রি ও গাছ বিক্রির সাথে বিট অফিসার মাসুদ সরকার ও অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মচারী বাহারছড়ার আবু শামা জড়িত রয়েছে। ওই প্লট ও গাছ বিক্রির টাকার অর্ধেক গেছে তাদের পকেটে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার বলেন, ‘প্লট বিক্রি ও ঝাউগাছ নিধনের ঘটনা একেবারে মিথ্যা। আসল কথা হলো, সৈকতের খালি জায়গাগুলোতে প্লট বানিয়ে ঘেরাও দিয়ে গাছ রোপন করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে এই বনায়ন করা হচ্ছে। এটা প্লট বিক্রি নয়।’

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares