সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৪০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

পেকুয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়ায় সিপিপি’র কর্মসূচী বাস্তবায়নে সীমাহীন অনিয়ম-দূর্নীতি!

  • সময় শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)

সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ অর্থায়নে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) এর কর্মসূচী বাস্তবায়নে কক্সবাজার জেলার তিন উপকূলীয় দূর্যোগ প্রবণ উপজেলা পেকুয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়ার দায়িত্বে থাকা সিপিপি কর্মকর্তা মুনীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতি ও সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে ধরে মুনীর চৌধুরী চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জানা যায়, এ কর্মকর্তা বিগত ০৫/০৩/২০০৫ ইংরেজীতে চকরিয়া উপজেলায় সিপিপি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই তিন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকার সুযোগকে পুঁিজ করে সিপিপি কর্মকর্তা মুনীর চৌধুরী জড়িয়ে পড়েছে নানান ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতিতে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যৌথভাবে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও নামমাত্র কর্মসূচী পালন করে বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) প্রধান কার্যালয় থেকে পেকুয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারী সিপিপির উপ সচিব (প্রশাসন) আহমাদুল হক স্বাক্ষরিত ৪৯৬ স্মারকের পত্রানুসারে জানা গেছে, পেকুয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় চলতি অর্থ বৎসরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্টানের জন্য (প্রতি উপজেলায়) ১লাখ ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ২৩টি ইউনিয়নে দূর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা র‌্যালী করার জন্য প্রতি ইউনিয়নে ৪ হাজার টাকা করে ৯২ হাজার টাকা, প্রতিটি স্বেচ্চাসেবক প্রশিক্ষণের জন্য ৪২ হাজার ৩৪৫ টাকা, স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণে নিয়োজিত প্রতিটি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষকদের জন্য ৫’শ টাকা হারে ভাতা, একই ভাবে প্রতিটি প্রশিক্ষণে সিপিপির উপজেলা টিম লিডারদের জন্য ৩’শ টাকা ও ইউনিয়ন টিম লিডারদের জন্য ২’শ টাকা হারে সম্মানী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর মে মাসে পেকুয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় মহড়া অনুষ্টান মগনামা ইউনিয়নে করা হয়। তবে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির সচেতনতা বাড়াতে র‌্যালীর করা হয়নি। কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নেও র‌্যালীর আয়োজন করা হয়নি। চকরিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ২/১টিতে র‌্যালীর আয়োজন করা হলেও বেশিরভাগ ইউনিয়নে র‌্যালীর আয়োজন করা হয়নি। এভাবে তিন উপজেলার ২৩ টি ইউনিয়নের অধিকাংশতে র‌্যালীর আয়োজন না কইে বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়াও তিন উপজেলায় স্বেচ্চাসেবকদের ১৫টি প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয় চলতি বছরে। এসব প্রশিক্ষণে ওই সিপিপি কর্মকর্তা উপজেলা সমূহের কোন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষক হিসেবে না এনে নিজেই প্রশিক্ষণে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই হিসাবে মুনীর চৌধুরী প্রতিটি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক বাবদ ৫’শ টাকা করে ৭ হাজার ৫’শ টাকার সম্মানী অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন।
সিপিপির এ কর্মকর্তা বিষয়টিও স্বীকারও করেছেন। তিনি জানান, বাহির থেকে কোন কর্মকর্তাকে লেকচারার হিসেবে এনে স্বেচ্চাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। তিনি নিজেই লেকচারার হিসেবে স্বেচ্চাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিন উপজেলার ইউএনওরাও প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন। চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া ইউএনওদের ১৫’শ টাকা করে প্রশিক্ষকের সম্মানী প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম করা হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি মহড়া করলেও কুতুবদিয়া ও চকরিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় মহড়া অনুষ্টানের আয়োজন না করেই বরাদ্দের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিন উপজেলায় স্বেচ্চাসেবকদের জন্য আয়োজিদ ট্রেনিং কর্মসূর্চীতেও বরাদ্দ নিয়েও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে মুনীর চৌধুরী বিরুদ্ধে। প্রতি ব্্যাচ স্বেচাসেবক প্রশিক্ষণে ৪২হাজার ৩’শ ৭৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বরাদ্দ অনুযায়ী ব্যয় করেনি সিপিপি কর্মকর্তা। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির চিত্র শুধুমাত্র চলতি অর্থবছরের। সে হিসেবে ২০০৪ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৮ ইংরেজী ডিসেম্বর পর্যন্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যৌথভাবে লাখ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দিলেও এই তিন উপজেলায় নামেমাত্র কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে বরাদ্দের সিংহভাগই আত্মসাত করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচীর টাকা এভাবে আত্মসাৎ করলেও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) এবং ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এসব অনিয়ম-দূর্নীতির প্রসঙ্গে জানতে সিপিপি কর্মকর্তা মুনীর চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সরকারী বরাদ্দ যথানিয়মে ব্যয় করেছেন কোন অনিয়ম করেনি। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহড়া অনুষ্টান করা হয়েছে। চকরিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় কখন কোন সময়ে মহড়া অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে সিপিপি প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাসানুল আমিন(প্রশাসন) ঘূর্ণিঝড় জানান, সিপিপি কর্মকর্তা মুনীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিপিপির কর্মসূচী বাস্তবায়নে অনিয়ম-দূর্নীতির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares