সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

ইয়াবা আকবর ছদ্মনাম ব্যবহার করে ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

  • সময় বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে

ক্রাইম রিপোর্টারঃ

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচু বনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আকবর নিজের নাম গোপন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা বেগমসহ মিলে গোপনে ইয়াবা কারবার চালানোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইয়াবা আকবর নিজেকে একজন সিএনজি চালক বলে পরিচয় দিলেও প্রকৃত পক্ষে সে একজন ইয়াবা কারবারি।

কুবুদ্ধি সম্পন্ন ইয়াবা কারবারি আকবর তার ইয়াবা কারবার লোক দৃষ্টির আড়াল করতে, নিজেকে সিএনজি অটোরিকশা চালক হিসাবে দেখাতে কিস্তি মূলে একটি সিএনজি নেয়। সেই সিএনজি ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। ইয়াবা আকবর টেকনাফ, হ্নীলা ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ইয়াবা ডিলারদের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। আকবর আগে কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পেছনে দক্ষিণ ডিককুল গ্রামের একটি রিকশা গ্যারেজে রিকশা মেকানিকের কাজ করতেন বলে জানা যায়। তার বাড়ি টেকনাফ সদরের কচুবনিয়া গ্রামে হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব লারপাড়ায় বসবাস করতেন। দুই বছরের অধিক সময় ধরে সে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা ইউনিয়নের চাবাগান এলাকায় ঘর করে বসবাস করে আসছে। তার দুই স্ত্রী প্রথম স্ত্রীর রামু নুনাছরি এলাকায় পিতার ঘর। তার দুই সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রী চাবাগানস্থ ঘরে থাকে। দ্বিতীয় স্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে বলে জানা যায়। ইয়াবা আকবর দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনাকে নিয়ে রামু কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকে। মূলত তার ইয়াবা ব্যবসা দ্বিতীয় স্ত্রীর মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। ২য় স্ত্রী সেলিনা কে নিয়ে ইয়াবা আকবর ঢাকা চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার নির্দিষ্ট ডিলারদের কাছে ইয়াবার বড় বড় চালান পৌঁছে দেয়। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইয়াবা কারবারিদের সাথে পরিচয় হয়ে ইয়াবা কারবার করলেও সেসমস্ত ইয়াবা কারবারিদের কাছে নিজের প্রকৃত নাম গোপন করে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে বলে জানা যায়। ধূর্ত ইয়াবা কারবারি আকবর একেক জনের কাছে একেক নামে পরিচিত। কেউ তাকে চিনেন জিয়া নামে আবার কেউ চিনে মামুন নামে। আবার ঢাকা চাঁদপুর খুলনার ইয়াবা কারবারিরা তাকে বিলাল নামে চিনেন বলে গোপন সুত্রে জানা যায়। অথচ ব্যবহৃত নাম সমুহ তার ছদ্মনাম। তার আসল নাম হল আকবর। চতুর আকবর যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন সেই মোবাইলের সিমকার্ড গুলো অন্যজনের নামে বায়োমেট্রিক সেন্সর করা। সেই বেনামি সিমকার্ড দিয়ে আকবর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা মরন নেশা ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা চট্টগ্রাম কুমিল্লা চাঁদপুর সহ অন্যান্য অঞ্চলের ইয়াবা কারবারিরা আকবর থেকে ইয়াবা ক্রয় করে পাচার করতে গিয়ে বিভিন্ন জেলা, থানায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পরে। আটক হওয়া ইয়াবা কারবারিরা যার কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেছে আসল নাম ঠিকানা না জেনে আকবরের ব্যবহার করা ছদ্মনামই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটককৃত ইয়াবা কারবারিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে নাম ঠিকানার তথ্য পান সেই তথ্য সঠিক না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীরা আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। মাঝে মাঝে এমন আটক হওয়া ইয়াবা কারবারিদের দেওয়া মোবাইল নাম্বারের উপর ভিত্তি করে যার নামে বায়োমেট্রিক করা হয়েছে তাকে ইয়াবা মামলার আসামী করা হয়। অথচ যার নামে মোবাইল নাম্বার বায়োমেট্রিক করা হয়েছে সে নিজেও জানেনা তার এই নাম্বারের সিমকার্ড রয়েছে। দেশে অনুমোদিত বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর গুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিমকার্ড বিক্রি করার জন্য ডিলার ও সাব ডিলার নিয়োগ করেছেন। সেই ডিলারদের মধ্যে কিছু কিছু অসাধু ডিলারেরা তাদের কাছে সিমকার্ড কিনতে আসেন শহর- গ্রামের সহজ সরল নারী পুরুষ। সেই মানুষ গুলোকে বায়োমেট্রিক যন্ত্রের সমস্যা অথবা নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে একাধিক বার আঙুলের চাপ সংগ্রহ করে নিয়ে সেই নিরহ মানুষ গুলোর নামে বায়োমেট্রিক করে একাধিক সিমকার্ড। পরে উচ্চ মুল্যে সেই সিমকার্ড গুলো অন্য মানুষজনের কাছে বিক্রি করে থাকেন সেই অসাধু ব্যবসায়ীরা। এধরণের সিমকার্ড দিয়েই কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন ইয়াবা কারবারি এবং উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গারা নানা ধরনের অপরাধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে যারা অপরাধ করে তারা হাতেনাতে ধরা না পড়লে তাদের মামলার আসামী হতে হয়না। কারণ ধরা না পড়া অপরাধীদের অপরাধ কর্মে ব্যবহৃত সিমকার্ড অন্যজনের নামে বায়োমেট্রিক করা। সেই সুত্রে যার নামে মোবাইল সিমকার্ড বায়োমেট্রিক করা আছে সেই নিরহ মানুষটি মামলার আসামী হচ্ছে। এরকম ঘটনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে। এসম্পর্কে দৈনিক আলোকিত উখিয়া একাধিক বার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

ইয়াবা আকবরের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবার সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত দুই তিন মাস আগে ১৫ হাজার পিচ ইয়াবার একটি চালান নিয়ে ইয়াবা আকবরের খুলনার একটি ইয়াবা পার্টি শরিয়তপুর অথবা মাদারীপুর এলাকায় RAB এর হাতে ধরা পড়েছে বলে জানা যায়। এর পর থেকে ইয়াবা আকবর রামু চাবাগান এলাকা ছেড়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনাকে নিয়ে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকার লার পাড়াতে ভাড়া বাসা নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করে বসবাস করছে বলে আমাদের ক্রাইম প্রতিবেদক গোপন সূত্রে জানতে পেরেছেন। এর আগে ইয়াবা আকবর তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনাকে রামু চাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসাতে রেখেছিল। ইয়াবা আকবরের দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনার আগের একজন স্বামী ছিল। সে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আটক হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে বেরিয়ে দেখে তার স্ত্রী সেলিনা আকবর নামের একজনকে বিয়ে করে পেলে। সেই রাগে প্রথম স্বামী স্ত্রী সেলিনাকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম পুলিশকে ইনফরমেশন দিয়ে ধরিয়ে দেয়। যার ফলে সেলিনা দীর্ঘদিন কারাভোগ করে। দ্বিতীয় স্বামী ইয়াবা আকবর সেলিনাকে জামিনে মুক্ত করে। জামিনে মুক্ত করে ইয়াবা আকবর তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনাকে নিয়ে কৌশল বদল করে পুনরায় ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। ইয়াবা আকবর গত বছর ১০ হাজার পিচ ইয়াবাসহ উখিয়ার বালুখালী কাস্টমস ঘাটে
ধরা পড়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে ৪/৫ মাস আগে জামিনে বেরিয়ে আবার ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়। ইয়াবা আকবরের কাছে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ১০টির উপরে সিমকার্ড রয়েছে। এই মোবাইল নাম্বার গুলো বিভিন্ন জনের নামে বায়োমেট্রিক করা হয়েছে। স্বামী স্ত্রী দুইজনে এই সিমকার্ড গুলো ব্যবহার করে তাদের ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধি ইয়াবা আকবরের একটি ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনার একটি মোবাইল নাম্বার পেয়েছেন । ইয়াবা আকবরের মোবাইল নাম্বার হল ০১৮ —। এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বার বার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। ঐ নাম্বারে রিং পড়লেও রিসিভ না করায় ইয়াবা আকবরের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তার ২য় স্ত্রী সেলিনার ০১৮২—-৫৮২ নাম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করতে ফোন দেওয়া হয়। প্রত্যেক বারই উল্লেখিত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইয়াবা আকবরের বড় ভাই ছৈয়দ আলমও ইয়াবা নিয়ে আটক হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে। এই ইয়াবা আকবর ওরফে মামুন ওরফে বিল্লাল সম্পর্কে আমাদের ক্রাইম নিউজ ব্রাঞ্চের চৌকষ রিপোর্টারের একটি টিম এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে ইয়াবা আকবরের ইয়াবা কারবারের আদ্যপান্ত জানতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে । অনুসন্ধান পরবর্তী সময়ে এই ইয়াবা আকবরের ইয়াবা কারবারের সাথে কারা কারা জড়িত আছে সমস্ত কিছুর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে দৈনিক আলোকিত উখিয়ায়। ইয়াবা আকবর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন দৈনিক আলোকিত উখিয়া পত্রিকায়।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares