সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

মাল্টা চাষের ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন ও সমাধান

  • সময় মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

মাটিতে যখন পুষ্টির অভাব হয় তখনি গাছে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। পুষ্টির অভাবের সাথে যখন সকালের রোদের অভাব, অতি বৃষ্টি সর্বোপরি সেচের তারতম্য হলেই নানাবিধ রোগের প্রকোপ বাড়তেই থাকে।
সমস্যা ও সমাধান

প্রশ্নঃ মাল্টা গাছে কচি পাতায়, ছোট পোকায় ডিম পেরে রাখে আর সেই ডিমগুলি ডগার রস চুসে পাতা খেয়ে ফেলছে, কি করলে পোকার হাত থেকে মাল্টা গাছ বাচাতে পারবো ?

সমাধান: প্রতি লিটার পানিতে রিপকর্ট/মার্শাল ০.৩০ মিলি ১ লিটার পানিতে দিয়ে ৭ দিন পর পর দুইবার স্প্রে করতে হবে শেষ বিকেলে। গাছে নতুনভাবে পাতা আসলে সপ্তাহে একবার হলেও বিষ স্প্রে করুন।

প্রশ্নঃ মাল্টা গাছের পাতাগুলো কুকড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কি করনিয় ?

সমাধান: “লিফ মাইনার “মাল্টার অন্যতম ক্ষতিকর পোকা। প্রাথমিক অবন্থায় লার্ভাসহ আক্রমন পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, আঠালো হলুদ ফাদ ব্যবহার করতে হবে, হলুদ রঙের বয়ামের বাইরের অংশে পোড়া মবিলের প্রলেপ দিয়ে ফাদ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি সম্রসারন অধিদপ্তর লিফ মাইনারের ক্ষেত্রে ডাইমেথোয়েট (টাফগর) সুপারিশ করেছে।

সবচেয়ে ভাল কাজ করে সবিক্রন। প্রতি লিটার পানিতে তিন মিলি হারে ৭ দিন পরপর মোট ২ বার টাফগর বা সবিক্রন স্প্রে করতে হবে শেষ বিকেলে। গাছে নতুনভাবে পাতা আসলে সপ্তাহে একবার হলেও বিষ স্প্রে করুন। কিন্তু গাছে ফল থাকা অবস্থায় স্প্রে করা যাবে না।
প্রশ্নঃ মাল্টা গাছের গা ও গোরা ফেটে আঠা বের হছে কি করব ?

সমাধান: এটিকে গ্যামোসিস বলা হয়। মাল্টার কমন রোগ। আঠা ঝড়া দেখামাত্র কিছুটা সুস্থ অংশসহ বাকল / ছাল তুলে ফেলা এবং কর্তিত অংশে বোর্দো মিশ্রণ বা কপার অক্সিক্লোরাইট জাতীয় ছত্রাক নাশক যেমন- কুপ্রাভিট ৫ গ্রাম/ লি. হারে পানিতে মিশিয়ে গাছের বডি স্প্রে করে দিন। কর্তিত অংশ শুকিয়ে যাবার পর পুরো গাছ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কপার দিয়ে স্প্রে করে দিন। ৭ দিন পর আবার। অথবা পাথর চুন দিয়ে পেস্ট বানিয়ে ওখানে দিন। আশাকরি সমাধান হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ মাল্টা গাছের পাতা কেন এমন পুড়ে যাচ্ছে? কি মিশাবো মাটিতে ?

সমাধান: অল্প একটু চুন এক লিটার পানিতে মিলিয়ে ২৪ ঘন্টা পর মাটিতে দিয়ে দিবেন। তাতে অতিরিক্ত বোরনটা নিচের স্তরে চলে যাবে। তারপর এক সপ্তাহ পর জৈব সার দু কেজি এবং একমুঠো লাল বালু গাছটির গোঁড়া থেকে দূরে মাটিতে ভালো করে মিশিয়ে দিবেন। নিয়মিত সেচ দিবেন ঠিক হয়ে যাবে গাছ।

প্রশ্নঃ মাল্টা গাছের নতুন পাতাগুলো হলুদ হয়ে যাচ্ছে এর কারন কি ?
সমাধান: গাছ রিপটিং এর পরে অন্তঃত ৩-৭দিন পর্যন্ত আলোযুক্ত ছায়ায় রাখা প্রয়োজন। গাছে নাইট্রোজেনের ঘাটতি হলে নীচের দিক থেকে পাতা হলুদ হয়। সালফার ঘাটতি হলে উপরের নতুন পাতা হলুদ হবে।

আরেকটা কারণ হতে পারে অতিরিক্ত পানি দিলে। পাতা ঝরে পড়ছে কিনা খেয়াল করুন। পাতার বোটা শক্ত অথচ হলুদ হয়ে যাওয়া, গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকার প্রমাণ। মাটি শুকিয়ে না গেলে পানি দেবেন না।

আবার মাটি অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে, গাছের শেকড়ের গ্রোথে বাধাপ্রাপ্ত হলে পাতার রং হলুদ হয়ে যায়। নতুন রিপটিং এর পরে নতুন মাটিতে শেকড় ছাড়তে গাছ কিছুটা সময় নেয়, এই সময়ে পাতা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে গাছ কিছু পাতা ঝরিয়ে ফেলে নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্যে।

প্রশ্নঃ গাছ লাগানোর কতদিন পরে ফল এসেছে ?
সমাধান: কলমের গাছে প্রথম বছরেই ফল ধরে, কিন্তু প্রথম ছোট গাছে ফল রাখলে গাছের ক্ষতি হবে তাই পরের বছর রাখতে হবে ।

প্রশ্নঃ মাল্টা পরিপূর্ণ বড় হতে কত দিন লাগে ?

সমাধান: মাল্টা গাছে ফুল হওয়া থেকে ফল পাকা পর্যন্ত প্রায় ৮ মাস সময় লেগে যায়। জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারীর দিকে ফুল আসে, আর সেপ্টেম্বর থেকে নবেম্বর মাস পর্যন্ত গাছে ফল থাকে। দেশি মাল্টা ভাদ্র মাসে পাকে। গায়ের রঙ সবুজ থেকে খুব হাল্কা হলুদ হবে, চামরা টান টান ভাব দেখলে বুঝবেন খাওয়ার সময় হয়েছে। মাল্টা পরিপূর্ণ বড় হতে দু থেকে তিন মাস লাগে ।
প্রশ্নঃ গাছে মিডিয়াম সাইজ হয়ে মাল্টা ঝরে যায়। করনীয় কি ?

সমাধান: অনেক সময় পানি বেশী দেয়ার কারনে, কিছু ফুল ঝড়ে যাবে তার পরেও ফল আসবে, আর যদি বেশি ফলন পেতে চান তাহলে, মাল্টা গাছের গোড়া থেকে কিছুটা দূরে চারদিক গর্ত করে ফুল আসার পূর্বে, এক ভাগ মাটির সাথে এক ভাগ জৈব সার মিশিয়ে নিবেন। ১৫ দিন পর গাছে নতুন পাতা আসলে ছোট টবে আধা চা চামচ বড় টবে এক চা চামচ আর হাফড্রামে এক টেবিল চামচ বোরন দিতে হবে। বোরন সার গাছের গোড়ায় দেয়া যাবেনা। টবের কিনারা ঘেঁষে সার দিতে হয়। সার বিকেলে যখন সুর্য্যের তেজ কমে যায় তখন দিতে হয়।

ফুল থেকে গুটি আসার পরই পতি সপ্তাহে একবার লিবরেল জিংক প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম, লিবরেল বোরন (বোরাক্স/ বরিক এসিড) প্রতি লিটারে ২ গ্রাম একত্রে ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে, ফল পাকার পূর্ব পর্যন্ত।
গাছে পোকার আক্রমন হলে ফল ঝরে পড়ে অথবা গাছে ফুল আসার শেষের দিকে যখন ফল আসতে শুরু করে তখন যদি গাছের গোড়ার মাটি খুড়ে কোন রাসায়নিক সার দেওয়া হয় অথবা ভুল মেডিসিন ছোট ফলে স্প্রে করা হয় অথবা গাছকে এক জায়গার গাছ অন্য জায়গায় স্হানান্তর করা হয় তখন ফল ঝরে যাবে।

প্রশ্নঃ মাল্টার ওজনে ডাল ভেংগে যাচ্ছে-কি করি বলুন তো ?

সমাধান: গাছের তুলনায় মাল্টা খুব বেশি না হয়ে স্বাভাবিক হলে, খুঁটি জাতীয় ব্যাবস্থার মাধ্যমে ডাল রক্ষা করতে পারেন। প্রথম বছরে মাল্টা যদি খুব বেশি হয়, প্রতি পুস্প মঞ্জুরিতে সুস্থ্য ও সবল দেখে দুটি ফল রেখে, বাকীগুলো মার্বেল আকৃতি থাকা অবস্থায় ছাঁটাই করে দিতে হবে। তাহলে ফলন ভালো হবে। তবে পরিপক্কতার পূর্বে ব্যাগিং করলে অবাঞ্ছিত পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মাল্টা গাছ লাগানোর পরে ফল ধরার পূর্ব পর্যন্ত ধীরে ধীরে ডালা ছেঁটে গাছকে নিদিষ্ট আকার দিতে হবে, যাতে গাছ উচু না হয়ে চারদিকে ছড়াতে পারে। কারন পার্শ্ব ডালে ফল বেশী ধরে। কাণ্ডের এক মিটার উচ্চতার সকল ডালা ছাঁটাই করতে হবে। ডালা ছাঁটাইয়ের পরে কাঁটা অংশে বোর্দোপেস্টের প্রলেপ দিতে হবে। মরা, শুকনা, রোগাক্রান্ত ডালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

প্রশ্নঃ মাল্টা টক, কি করি বলুন তো ?
সমাধান: বাংলাদেশে যত গুলি জাত আছে বেশির ভাগ টক, তবে বারি ১ জাতটি মিস্টি হয়, তবে মিষ্টি জাতের মাল্টা যদি মাটির কারনে টক হয়, তখন হাড়ের গুড়ার সাথে সামান্য পাথর চুন প্রয়োগ করুন, চুন এ বিদ্যমান ক্যালসিয়াম ফলের মিষ্টতা বাড়ায়। অথবা গাছের গোড়ায় ম্যাগ্নেসিয়াম সালফেট গাছ প্রতি ২ চা চামচ ১৫ দিন পর পর দুই বার দিলে ফল মিস্টি হবে।
পরবর্তীতে যা যা করবেনঃ

১. ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন।

২. পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন।

৩. গাছের জন্য ভাল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্হা রাখা।

গাছ লাগানোর শুরুতেই যদি ৪০ ভাগ ভার্মি /শুকনো গোবড় সার ব্যবহার করা যায় তবে রোগের প্রকোপ অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares