সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

আইনের জালে উখিয়ার ফোর মার্ডারের আসামী!

  • সময় মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২৬৮৯ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্কঃ
আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে রয়েছে উখিয়ার ফোর মার্ডারের আসামীরা। ঘাতকের সার্বক্ষনিক গতিবিধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘাতকের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এ চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের তদন্তে প্রাপ্ত সকল তথ্য-উপাত্ত ও ঘাতককে সহ আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বস্ত সুত্র সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাদের গতিবিধি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তারা হলো-নিহত শিশু সনী বড়ুয়ার মা রিকু বড়ুয়ার ভাই ভাগ্যধন বড়ুয়া। ভাগ্যধন বড়ুয়ার বাড়ি চকরিয়া উপজেলার কাকরা ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে। সে ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাত্রে মানিকপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে ছিলোনা বলে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি সিবিএন-কে জানিয়েছেন। ভাগ্যধন বড়ুয়া একজন পাথরভাঙ্গার শ্রমিক ও মাংস শ্রমিক (কসাই) বলে জানা গেছে। আরো যাদের গতিবিধি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তারা হলো-নিহত ৫ বছরের শিশু সনী বড়ুয়া পিতা-শিবু বড়ুয়া, মাতা-রিকু বড়ুয়া। ২ জন কাঠুরিয়া, যাদের মধ্যে একজনের বাড়ি রাজাপালং ইউনিয়নের পিঞ্জিরকূল গ্রামে, অপরজনের বাড়ি জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্নিস্যা গ্রামে। আর হলো-কুয়েত প্রবাসী রোকন বড়ুয়ার অভিশপ্ত বাড়ীর কেয়ারটেকার ও তার ভায়রাভাই অসীম বড়ুয়া সহ মোট ৭ জন। তাদের সকলের নেয়া জবানবন্দি চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ঘটনাবলী পরস্পর ক্রস করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের ঘাতক ও কেন এই পৈশাচিক হত্যাকান্ড সংগঠিত করলো সে সম্পর্কে শিঘ্রই চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে যাচ্ছে। এদিকে, খুন হওয়া বাড়ির ভেতরের রক্তের পায়ের চাপের সাথে স্বজনহারা রোকন বড়ুয়ার এক আত্মীয়ের পায়ের চাপ হুবহু মিলে গেছে। তার গতিবিধিও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরা সকলকে সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিভাগের জেলা কার্যালয়ে আরো অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। সেখানে পৃথক পৃথকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে একটি সুত্র সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া রোকন বড়ুয়া ও তার স্ত্রী নিহত মিলা বড়ুয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা হিসাবের বিবরণীও উত্তোলন করে যাচাই করা হচ্ছে। কাউকে চেক মূলে কোন ঋন দেয়া হয়েছে কিনা, তা ব্যাংক হিসাবের উত্তেলিত বিবরণীতে পূংখানুপূংখরূপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, “আমরা সন্দেহজনকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করতে চাইনা, কোন নির্দোষ মানুষ অহেতুক হয়রানির শিকার হউক সেটা আমরা চাইনা। জর্জ মিয়া নাটকও সাজাতে চাইনা। হত্যাকারী কে বা কারা, কেন, কি উদ্দেশ্যে, কিভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটাল তা ওভারকর্নফাম হয়ে ঘাতককে কঠোর আইনের আওতায় আনতে চাই। আমারা এ সংক্রান্ত কোন বিষয়কে হালকাভাবে নিচ্ছিনা। বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রয়োজনীয় সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমরা হত্যাকান্ডের অনেক ক্লু ইতিমধ্যে পেয়েছি, তবে তদন্তের স্বার্থে এসব ক্লু প্রকাশ করতে পারছিনা। আমরা চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের মোটিভ উদঘাটনে প্রায় শেষপর্যায়ে এসেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সুরতহাল রিপোর্ট, সিআইডি’র ক্রাইম সিন টিমের রিপোর্ট, পিবিআই এর চট্টগ্রাম থেকে আসা ফরেনসিক এক্সপার্ট টিমের রিপোর্ট, অন্যান্য সংগ্রহকৃত আলামত ও তথ্য উপাত্ত সহ সমন্বিত করে প্রকৃত খুনীদের নাম ঠিকানা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আশাকরি বের করতে পারবো। এজন্য প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত খতিয়ে দেখছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পরামর্শ মতে এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য একটু সময় লাগলেও ভবিষ্যতে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গুলোর জন্য তথ্য উপাত্ত পেতে আর সংকট হবেনা। আদালতে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতেও আর বেগ পেতে হবেনা। তখন ঘাতককেও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি (ক্যাপিটাল ফানিসমেন্ট) এর আওতায় আনা যাবে। আবার মামলাটির তদন্তের গতিশীলতাও বেশ ভাল রয়েছে। এজন্য মামলার অগ্রগতি বেশ সন্তোষজনক।”

প্রসঙ্গত, উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বড়ুয়া পাড়ায় প্রবাসী রোকন বড়ুয়ার বাড়ীতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাত্রে রোকন বড়ুয়ার মা সুখী বালা বড়ুয়া (৬৫), সহধর্মিণী মিলা বড়ুয়া (২৫) একমাত্র পুত্র রবিন বড়ুয়া (৫) এবং ভাতিজি সনি বড়ুয়া (৫) কে জবাই করে কে বা কারা হত্যা করে। এবিষয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ৪৭/২০১৯, ধারা : ফৌজদারি দন্ড বিধি : ৩০২ ও ৩৪। মামলায় নিহত মিলা বড়ুয়ার পিতা ও রোকন বড়ুয়ার শ্বশুর শশাংক বড়ুয়া বাদী হয়েছেন। মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামী করা হয়নি, আসামী অজ্ঞাত হিসাবে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটির পরিবর্তিত তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) হচ্ছেন-উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares