মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা গ্রেফতার! ইয়াবা অস্ত্র ও বিদেশী মদ উদ্ধার

  • সময় রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৭৮৯ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্টঃ

কক্সবাজারে পুলিশ সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির বাসা থেকে অস্ত্র, ইয়াবা ও মদের বোতল উদ্ধার করেছে। অনলাইন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এ ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও গোপনে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।

গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তির নাম ফরিদুল মোস্তফা খান (৪৮)। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা হলেও বসবাস করেন শহরের সমিতি পাড়া নামক এলাকায়। কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধজনক কাজ করার পর তিনি বেশ কিছুকাল ধরে রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে প্রতারণা, মাদক কারবার এবং চাঁদাবাজিতে লিপ্ত ছিলেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ফরিদুল মোস্তফা খানের পিতা প্রয়াত ইছহাক খান ছিলেন যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর অন্যতম একজন ঘনিষ্টজন। তিনি যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভাল করতেন। এ ছাড়াও প্রয়াত ইছহাক খান ছিলেন রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠি আরএসও’র অন্যতম উপদেষ্টা। এসব কারণে পরিবারটি রয়েছে জামায়াত রাজনীতির সাথে সম্পৃত্ত।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্তের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ভাই ইয়াবা ডন মৌলভী মুজিবুর রহমানসহ সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের অন্যতম সোর্স হিসাবে কাজ করতেন গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী ফরিদুল মোস্তফা খান।

ইয়াবা কারবারিদের লেখালেখির মাধমে সহযোগিতা দিতে সীমান্তের কারবারিদের টাকায় ফরিদুল মোস্তফা কক্সবাজার শহর থেকে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করতেন। এমনকি মৌলভী মুজিবুর রহমান নামের একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি তাকে একটি অফসেট প্রেসও কিনে দিয়েছিলেন। পরে এসব বিক্রি করে দিয়ে প্রতারক ফরিদুল মোস্তফা খান আত্মগোপনে চলে যান।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে ফরিদুল মোস্তফা খান একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এ দু’ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে গোপনে সরকার বিরোধী পরিচালনা করে আসছিলেন। এমনকি ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পরিচয় দিয়ে কক্সবাজারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নানা ভাবে মিথ্যাচার করা শুরু করেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, ফরিদুল মোস্তফা খানের একাধিক স্ত্রী রয়েছে। এক স্ত্রী ইতিমধ্যে টেকনাফ থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। ফরিদুলের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানা ও কক্সবাজার সদর থানায় রয়েছে মোট ৫টি মামলা।

পুলিশ সুপার বলেন, এলাকার বিশিষ্ট জনের চরিত্র হননের জন্য তিনি টাকা চেয়ে মোবাইল করেন। টাকা না দিলে কোন না কোন অনলাইনে তিনি চরিত্র হননের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন।

কক্সবাজারের জেলা পুলিশ বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করে। পুলিশ সদর দপ্তর মোবাইল ট্যাকের মাধ্যমে গত শুক্রবার আটক করে ফরিদুলকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে। কক্সবাজারে নিয়ে আসার পর পুলিশ তার স্বীকারোক্তি মতে আজ রবিবার ভোর রাতে ফরিদুলের সমিতি পাড়ার বাসায় তল্লাশি চালায়। উক্ত বাসা থেকে ২টি এলজি, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ বোতল বিদেশি মদ ও ৪ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে। আজই পুলিশ সাংবাদিক পরিচয়ধারী ফরিদুলকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares