মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শ্মশান ও পুকুর দখল

  • সময় বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রির্পোট:
রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ৫ শত বছরের পুরাতন শ্মশান ও ঠাকুর দিঘীটি নতুন টিনের ঘেরা দিয়ে দখল করেছে ভূমিদস্যুতারা। শ্মশান ও দিঘী দখল করাকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে রক্ত খইয়ি সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরংলায়া এলাকায় সীমা বিহারের উত্তর পাশে এই ঘটনাটি ঘটে। ঐ দিন দেশীয় তৈরি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বহিরাগত ৩০/৪০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও প্রশাসনের সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ দাঁড়িয়ে রেখে কামলা দিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শ্মশান ও দিঘিটি চতুর পার্শ্বে কাঠের বাটাম দ্বারা টিন দিয়ে ঘিরে পেলে দখলে নেই ভূমিদস্যুরা। প্রতিবাদ করলে পুলিশের ভয় প্রদর্শন করে এবং মারধর করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

এতে নেতৃত্ব দেন মধ্যম মেরংলোয়া সীমা বিহার এলাকার মানদা চরন বড়ুয়াী ছেলে নিলু বড়ুয়া , লিটন মেম্বার, পরিমল বড়ুয়ার ছেলে জিটু বড়ুয়া,কক্সবাজার বদর মোকাম এলাকার মৃনাল কান্তি বড়ুয়ার ছেলে রোমন বড়ুয়া। সরেজমিন পরিদর্শন গিয়ে দেখা যায় দীর্ঘদিনের পুরাতন এই শ্মশান ও দিঘী টির চতুর্পাশে নতুন টিন দিয়ে ঘেরা দেওয়া হয়েছে। শ্মশানে রয়েছে নতুন ও পুরাতন অনেক সমাধি, রয়েছে গাছপালা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন লোকজন মারা এই শ্মশান টিতে মরদেহ সমাধি করা হয়। এলাকাবাসী জানান এটা ইতিহাস খ্যাত ঠাকুর পুকুর নামে পরিচিত পুকুরের সামনে একটা ছোট বিহার ছিল। ঐ পুকুরে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা স্নান করত।এবং এবং বুদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনও এ পুকুর ব্যবহার করত। কুকুরের পুকুরের পূর্ব পাশে বিরাট এই শ্মশান টি আমাদের আত্মীয় স্বজন কিউ মারা গেলে তাদেরকে আমরা এই শ্মশান সমাহিত করে, আমাদের উত্তরসূরীরা শ্মশান ও পুকুর টির জায়গা দান করেছিল। টাকা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ দিন দরে ভূমিদস্যুরা পুকুর ও শ্মশান টি দখল করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তারা পুকুর ও শ্মশানটি মাটি দিয়ে ভরাট করে প্লট করে বিক্রি করার চেষ্টা করতেছে।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ুয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ওখানে একটা শ্মশান আছে, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন লোকজন মারা গেলে সেখানে সমাহিত করা হয়, পাশে বড় একটি পুকুর আছে, পুকুরটি ঠাকুর পুকুর নামে পরিচিত, আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান আমি শুনেছি পুকুর ও শ্মশানটি দখল করেছে আমি নিন্দা জানাচ্ছি। অরিন্দ্র বড়ুয়া,সনেশ বড়ুয়া লুতু বড়ুয়া, টিপন বড়ুয়া, কমল বড়ুয়া,,নাংকু বড়ুয়া, কাজল বড়ুয়া,সুধু রানী বড়ুয়া, নিলু বড়ুয়া সহ ৪৬ জন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোক স্বাক্ষর করে এলাকাবাসীর পক্ষে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভূমিদস্যুদের কবল থেকে শ্মশান ও পুকুর টি উদ্ধার করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চান এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের একজন স্থানীয় মেম্বার লিটন বড়ুয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান রোমান বড়ুয়ার জায়গা আমরা ক্রয় করতেছি তাই জায়গাগুলো দখল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares