বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্ধ হলো  ৪১ এনজিও’র কার্যক্রম! নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফ্রেন্ডশিপ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ, আল মারকাজুল ইসলাম, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, গ্রামীণ কল্যাণ, অগ্রযাত্রা, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট, আল্লামা আবুল খায়ের ফাউন্ডেশন, ঘরনী, ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, পালস, মুক্তি, বুরো-বাংলাদেশ, এসএআর, আসিয়াব, এসিএলএবি, এসডব্লিউএবি, ন্যাকম, এফডিএসআর, জমজম বাংলাদেশ, আমান, ওব্যাট হেলপার্স, হেল্প কক্সবাজার, শাহবাগ জামেয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম অরফানেজ, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স, লিডার্স, লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব জোনাল অ্যাপ্রোচ ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান এইড অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিশ, হোপ ফাউন্ডেশন, ক্যাপ আনামুর, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইনকরপোরেশন, গরীব, এতিম ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও।

রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে বাধা দেন মুহিবুল্লাহ!

  • সময় মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে
  •  
  •  
  •  
  •  

আলোকিত ডেস্কঃ
রোহিঙ্গা সমাবেশের মদদদাতারা শনাক্ত

বিতর্কিত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ও তাঁর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই। এসব নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে চলছে নানা আলোচনা। তবে সর্বশেষ অভিযোগ উঠেছে, মুহিবুল্লাহর সংগঠনের লোকজনই শেষ মুহূর্তে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে সম্মত পরিবারগুলোর দেশে ফেরা ঠেকিয়ে দিয়েছিল।

জানা গেছে, একটি পরিবারও যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে সম্মত না হতো, তাহলে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হতো না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুরনো (অনেক দিন আগে আসা রোহিঙ্গা) রোহিঙ্গারাই শুধু জানত, টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পের অন্তত ২২টি পরিবারের লোকজন স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত ছিল।

স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে কোনো রোহিঙ্গা পরিবার রাজি না হলে প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ২২ আগস্ট ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রত্যাবাসনের জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুতি নিতেন না। কিন্তু প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ায় এসব বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা আর মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ২৫ আগস্টের সমাবেশের জন্য নেপথ্যে অর্থ জোগান দেওয়াসহ নানাভাবে ভূমিকা পালনকারী বেশ কিছু এনজিও, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ছাড়াও কক্সবাজারের কয়েকজন পেশাজীবীর নামও আছে। কক্সবাজারের প্রশাসন ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার পর একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এনজিও ব্যুরোতে। তবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করছেন না।

জানা গেছে, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার দুই বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে গত ২৫ আগস্ট সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কুতুপালং ক্যাম্পের বর্ধিত-৪ নম্বর ব্লকে বিশাল ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয় এআরএসপিএইচ, ভয়েস অব রোহিঙ্গা এবং রোহিঙ্গা রিফিউজি কাউন্সিলের (আরআরসি) উদ্যোগে। এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জের (সিআইসি) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই সেদিনের সমাবেশটি করা হয়েছিল।

সমাবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজারের উখিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাসুদ ভুঁইয়া। সেদিনের সমাবেশে মাসুদ ভুঁইয়া সার্বক্ষণিক মঞ্চে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর পাশে বসা ছিলেন। জানা গেছে, উখিয়ার সিকদার বিল গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ ভুঁইয়া রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত। এমনকি মুহিবুল্লাহর সংগঠনেরও একজন অন্যতম উপদেষ্টা তিনি। তবে মাসুদ ভুঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। তিনি সমাবেশে গিয়েছিলেন আমন্ত্রিত হয়েই।

এআরএসপিএইচর উপদেষ্টা হিসেবে ঢাকায় কর্মরত দুলাল মল্লিক নামের এক আইনজীবীসহ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির আরো দুই আইনজীবীর নামও এসেছে। আইনজীবী দুলাল মল্লিক উখিয়ার বাসিন্দা। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্য দুজনের একজন উখিয়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম। তিনি কক্সবাজারে দুদকের নিয়োজিত আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। অন্যজন টেকনাফের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান কক্সবাজার জেলা ও দায়রা আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত। দুজনই কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা মুহিবুল্লাহকে কোনো দিন দেখেননি।

অন্যদিকে মুহিবুল্লাহর সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের নামও এসেছে।

এ ছাড়া ওই সমাবেশের জন্য অনেক সংস্থার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত সেবা সংস্থা ‘কারিতাস’ সেদিনের রোহিঙ্গা সমাবেশে মদদদাতাদের মধ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারিতাসের কর্মকর্তারা। কারিতাসের চট্টগ্রামের প্রকল্প পরিচালক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কারিতাস রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজ করে না।’

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী প্রতিবেদন দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অনেক কিছুই আমাদের নজরেও এসেছে। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। এ ছাড়া অন্য যেসব এনজিও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গা সমাবেশে মদদ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগ উঠেছে, ২২টি পরিবারের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মুহিবুল্লাহর নির্দেশে এআরএসপিএইচের লোকজন শালবাগান ক্যাম্পের পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। তারা মূলত ২১ আগস্ট রাতেই ক্যাম্পটিতে কায়েম করে ত্রাসের রাজত্ব। ক্যাম্পটির কয়েক শ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের মাঠে নামিয়ে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের ওই রাতে ধরে নিয়ে পাশের পাহাড়ে আটকে রাখা হয়। মুহিবুল্লাহর লোকজনের বাধার কারণে সেই ২২ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এখন কেউ কথা বলতে পারছে না।

জানা গেছে, ওই প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ার পরও মুহিবুল্লাহর সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক ভালো ছিল। এ কারণে ২৫ আগস্ট তিনি নির্বিঘ্নে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সমাবেশ ঘটাতে পেরেছিলেন।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহর সংগঠনের মজলিসে শুরায় মুহিবুল্লাহসহ (চেয়ারম্যান) রয়েছেন ৫২ সদস্য। প্রত্যেকেরই মাসিক বেতন-ভাতা রয়েছে। বেতন-ভাতার এ অর্থ বাইরের দেশ থেকে আসে। কিন্তু কোন দেশ এবং কোন সংস্থার কাছ থেকে আসে, সেটি অন্য কেউ জানে না। এসব বিষয় নিয়ে মুহিবুল্লাহ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

এদিকে হঠাৎ নেতা বনে যাওয়া মুহিবুল্লাহর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। তারা বলছে, এতকাল মুহিবুল্লাহর নাম কেউ শুনতে পায়নি। তিনি আকস্মিক উঠে আসা। আমেরিকা ঘুরে আসার পরই সাধারণ রোহিঙ্গারা তাঁর কথা শুনছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুপালং ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘সাধারণ রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় এ মুহূর্তে দেশের বাপ-দাদার ভিটায় ফিরতে ইচ্ছুক। কিন্তু মুহিবুল্লাহদের নানা কিসসা-কাহিনির কারণেই আমরা ফিরতে পারছি না।’

Comments Below
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ