বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্ধ হলো  ৪১ এনজিও’র কার্যক্রম! নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফ্রেন্ডশিপ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ, আল মারকাজুল ইসলাম, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, গ্রামীণ কল্যাণ, অগ্রযাত্রা, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট, আল্লামা আবুল খায়ের ফাউন্ডেশন, ঘরনী, ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, পালস, মুক্তি, বুরো-বাংলাদেশ, এসএআর, আসিয়াব, এসিএলএবি, এসডব্লিউএবি, ন্যাকম, এফডিএসআর, জমজম বাংলাদেশ, আমান, ওব্যাট হেলপার্স, হেল্প কক্সবাজার, শাহবাগ জামেয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম অরফানেজ, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স, লিডার্স, লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব জোনাল অ্যাপ্রোচ ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান এইড অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিশ, হোপ ফাউন্ডেশন, ক্যাপ আনামুর, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইনকরপোরেশন, গরীব, এতিম ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও।

আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় আশানুরুপ বাগদা উৎপাদন হয়নি খুলনার ২৫ উপজলো ।

  • সময় সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে
  •  
  •  
  •  
  •  

পাইকগাছা প্রতিনিধি ।

বাগদা চিংড়ি মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এপ্রিল ও মে মাসে রোগ বালাই দেখা দেয়। বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেকটি চিংড়ির খামারে বড় আকারের মড়ক দেখা দেয়। সে কারণে এ মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে আশানুরুপ বাগদা উৎপাদন হয়নি। পাশাপাশি হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করায় চাষী ও ডিপো মালিকরা গত মৌসুমের থেকে কম দাম পেয়েছে। জেলা অধিকাংশ খামারীদের বাগদা আবাদে লোকসান গুণতে হবে।

উপকূলবর্তী এলাকায় মার্চ মাস থেকে খামারগুলোতে চিংড়ি পোনা সরবরাহ করা হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে এ অঞ্চলে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অতিরিক্ত তাপের কারণে প্রথম দিকে খামারে রোগবালাই দেখা দেয়। চিংড়ি চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ ও ঋণী হয়ে পড়ে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হেঞ্চী গ্রামের চিংড়ি চাষী হেমন্ত কুমার মন্ডল জানান, ৯০ বিঘা জমিতে চিংড়ির খামারে উৎপাদন খরচ এবার ১০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা মূল্যের চিংড়ি বিক্রি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে খরার ক্রাণে পরবর্তিতে জুলাই মাসে অতিবৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা হেরফের হওয়ায় প্রথম চালানের দেড়লাখ চিংড়ির পোনা মারা যায়। এ উপজেলার পোড়াকাঠলা, গোয়ারসিং, যতিন্দ্রনগর, পালবাড়িয়া, দুর্গকাঠি গ্রামে সারা মৌসুম ধরে চিংড়ি খামারে তাপমাত্রার হেরফের ঘটে। কখনও অনাবৃষ্টি আবার কখনও অতিবৃষ্টি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চিংড়ি চাষী শ্যামল কুমার বৈরাগী, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল, আবু সাইদ ও প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল।

বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের চিংড়ি চাষী রুহুল আমিন জানান, সারা মৌসুমই চিংড়ির দাম স্থীতিশীল ছিল না। ২০/২২ সাইজের প্রতি কেজি চিংড়ির মূল্য ৯৫০ টাকা। গতবার এর দাম বেশি ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টির পর খামারের পরিবেশ এখন চিংড়ি চাষের উপযোগী। মৌসুমের শুরুতে রামপাল উপজেলার বাঁশতলি, পেড়িখালী, হুড়কা গ্রামের চিংড়ির খামারে ভাইরাস দেখা দেয়।

খুলনার দাকোপ উপজেলার পাঠচালনা গ্রামের চিংড়ি চাষী আসলাম শেখ জানান, কাঙ্খিত নোনাপানি না পাওয়ায় চিংড়ি চাষে বিলম্ব হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই দাকোপের তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের চিংড়ি চাষীরা কাঙ্খিত নোনা পানি পায়নি। তাছাড়া চিংড়ির পোনার মূল্য গতবারের থেকে এবার বেশি। কক্সবাজারের বিভিন্ন হ্যাচারীর উৎপাদিত পোনা প্রকারভেদে প্রতি হাজার সাড়ে ৩শ’-৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়।

স্থানীয় শিবসা ও পশুর নদীতে উৎপাদিত পোনা প্রতি হাজার ৯শ’ থেকে একহাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গেল মৌসুমের তুলনায় এবারে প্রতি হাজার পোনার মূল্য ২শ’ টাকা করে বেশি।

বাগেরহাট জেলার ফয়লা ডিপো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মল্লিক জানান, এখানকার আড়তের ১৫টি দোকানে গেল মৌসুমে প্রতিদিন ৩০ মন করে চিংড়ি আসত। এবারে আড়তে প্রতিদিন চিংড়ি আসার পরিমান গড়ে ২০ মন। তিনি জানান, ৩০-৩৮ সাইজের প্রতি কেজি চিংড়ি ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গেল মৌসুমে এ সাইজের প্রতি কেজির মূল্য ছিল ৫৫০ টাকা। ১৬-১৮ সাইজের প্রতি কেজির মূল্য এবারে ৯৫০ টাকা। গেল মৌসুমে এ সাইজের চিংড়ির মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা ছিল।

তার দেওয়া তথ্য মতে, হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করে জুলাই আগস্টে কম দামে চিংড়ি কেনে।

খুলনা জেলা মৎস কর্মকর্তা আবু ছাইদ জানান, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটায় দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় চিংড়ি খামারে রোগবালাই দেখা দেয়। বটিয়াঘাটা উপজেলার ৬৫ টি আধা নিবিড় খামারের মধ্যে ৫টি খামারের চিংড়ি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তিনি জানান, গত বছর ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে ২৮ হাজার ৩৪৫ মেট্রিকটন চিংড়ি উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে জেলার ৫৬ হাজার ১৯৪ হেক্টর জমিতে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৫৮৮ মেট্রিকটন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। বাগদার উৎপাদন আশানুরুপ হয়নি।

Comments Below
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ