বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্ধ হলো  ৪১ এনজিও’র কার্যক্রম! নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফ্রেন্ডশিপ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ, আল মারকাজুল ইসলাম, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, গ্রামীণ কল্যাণ, অগ্রযাত্রা, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট, আল্লামা আবুল খায়ের ফাউন্ডেশন, ঘরনী, ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, পালস, মুক্তি, বুরো-বাংলাদেশ, এসএআর, আসিয়াব, এসিএলএবি, এসডব্লিউএবি, ন্যাকম, এফডিএসআর, জমজম বাংলাদেশ, আমান, ওব্যাট হেলপার্স, হেল্প কক্সবাজার, শাহবাগ জামেয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম অরফানেজ, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স, লিডার্স, লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব জোনাল অ্যাপ্রোচ ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান এইড অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিশ, হোপ ফাউন্ডেশন, ক্যাপ আনামুর, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইনকরপোরেশন, গরীব, এতিম ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও।

বিআরটিএ অফিস দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণেঃ দু’দিনে মিলে লাইসেন্স!

  • সময় শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
দালাল নুরুল ইসলাম
  •  
  •  
  •  
  •  

আলোকিত ক্রাইম প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কক্সবাজার সার্কেল অফিসে টাকা দিলে সব মিলে। মোটরযান আইনের কোন নিয়মনীতি এখানে মানা হয় না। দুই মাস পরে ডেলিভারী দেয়া শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে দুইদিনে।
দালাল, উপ-দালালে ভরে গেছে বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেল অফিস। ২৫/২৬ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম নামের একযুবকই পুরো বিআরটিএ অফিসের নিয়ন্ত্রক। দালালের মাধ্যমে টাকা দিলেই মোটরযান আইন উপেক্ষা করে সব অনিয়মকে এখানে নিয়মে পরিণত করেছে অফিসের দুই জন কর্মকর্তা। একজন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) উথোয়ানো চৌধুরী অপরজন উচ্চমান সহকারী সালাহ উদ্দিন রায়হান। তবে দালাল হিসেবে চিহ্নিত লোকজনকে অফিসের প্রয়োজনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) উথোয়ানো চৌধুরী। বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয়ে মোটরযান মালিক শ্রমিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, সরকারী সেবামুলক প্রতিষ্টান বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেল অফিস অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা দেয়ার সময় উচ্চমান সহকারী সালাউদ্দিন রায়হান গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩’শ টাকা হারে নেন। টাকা না দিলে আবেনটি সহকারী পরিচালকের কাছে পাঠান। আবার তিনি পাঠান রায়হানের কাছে। এভাবে তিন’শ টাকার জন্য ঘুরতে হয় সপ্তাহের পর সপ্তাহ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মোটরযান শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কক্সবাজার জেলার শ্রমিক বা অন্যান্য যানবাহনে যারা চালক আছেন তারা খুব কষ্ট রয়েছেন। লাইসেন্সের জন্য আবেদনের পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা সরকারি টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ফিংগার প্রিন্টের জন্য ফাইল জমা দেন উচ্চমান সহকারী রায়হানের কাছে। বিদেশ যাবার ক্ষেত্রে বিদেশী লাইসেন্সের জন্য জরুরী আবেদনের নামে ২০ হাজার টাকা নেয়া হয় আর ডেলিভারী দেন ১৫ দিন পর। অথচ মোটর যান আইনে জরুরী কোন লাইসেন্স ইস্যুর নিয়ম নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের পর সালাহ উদ্দিন রায়হানকে ১৫/২০ হাজার টাকা দিলে একদিনের মধ্যে লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার অহরহ অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম আছে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে পরীক্ষার পর ২ মাস শিক্ষানবীশ কাল অতিবাহিত করতে হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে লাইসেন্স পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দেয়া হয় এখানে। এতে করে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাণহানির ঘটনাও। দালাল নুরুল ইসলামের হাতে টাকা দিলেই অতিদ্রুত সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডেলিভারী, লাইসেন্স রেন্যু করে দেন উচ্চমান সহকারী ও সহকারী পরিচালক ।

বিআরটিএ অফিসের ড্রাইভিং বোর্ডের সদস্য সচিব ও মোটরযান পরির্দশক আরিফুল ইসলাম টিপু বলেন, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে প্রথমে আবেদন জমা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। উত্তীর্ণদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। মোটরযান আইন অনুসারে দুই মাস কমপক্ষে শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করতে হয় এবং এরপর শিক্ষানবীশ লাইসেন্স সরবরাহ দেয়া হয়। এরপর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় প্রার্থীকে। এরপর টেস্ট বোর্ডের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ইস্যু করেন বিআরটিএ। এখানে কোন অনিয়ম হয় না।

তবে তার কথা আর বিআরটিএ অফিসের কর্মকান্ডে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এখানে মোটরযান আইনের নিয়মনীতি কিছুতেই মানা হয় না । ঘুষ দিলেই সব অনিয়ম এখানে নিয়মে পরিণত হয়। আবেদন করে, পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে একদিনের ভেতর শিক্ষানবীশ লাইসেন্স সরবরাহের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। উচ্চমান সহকারী সালাহ উদ্দিন রায়হানের সহযোগী শীর্ষ দালাল নুরুল ইসলাম, মিশন ও ইউনুস নামের ব্যক্তিরাই বিআরটিএ অফিসের মুল কারিগর।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, টপ দালাল নুরুল ইসলাম এক সময় ডাক্তার মহিউদ্দিন খান আলমগীরের গাড়ি চালক ছিলেন। ডা: মহি উদ্দিন খান আলমগীর ছিলেন বিআরটিএ অফিসে সিভিল সার্জন প্রতিনিধি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স টেস্ট বোর্ড ও ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ডের সদস্য। সে সুবাদে বিআরটিএ অফিস কর্মকর্তাদের সাথে নুরুর সখ্যতা গড়ে উঠেন। গাড়ী চালক নুরুল ইসলামকে গত ৪ বছর আগে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দিলে সেই থেকে শুরু বিআরটিএ অফিসে দালালি।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসের একজন শীর্ষ দালাল পরিণত হওয়ায় তার কথায় চলেন কর্মকর্তারা। এই নুরুল ইসলাম বিআরটিএ অফিসের কর্মচারী না হলেও অফিস সরকারী কম্পিউটার খুলে নিজেই শিক্ষানবিশ লাইসেন্স প্রিন্ট দিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করেন। এই দালাল নুরুল ইসলামকে টাকা দিলে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিতে হয় না, ফরম পূরণ করতে হয় না, সত্যায়িত করতে হয় না, এমনকি আবেদনকারীর স্বাক্ষরও দিতে হয় না। সবকিছু নুরুল ইসলাম নিজেই করে দেন। তার হাতে শুধু টাকা, আবেদনকারীর ছবি দিলেই সে বানিয়ে দেন লাইসেন্স।

২০১৯ সালের বেশ কয়েকজন শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে আগ্রহী গ্রার্থী আবেদন পত্র জমা দেন। কিন্তু একদিন পর তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এধরনের বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে করে সম্পূর্ণ মোটরযান আইন অমান্য করা হয়েছে । তাই সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসে এ ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির অসংখ্য তথ্য পাওয়া গেছে। ২০ হাজার টাকা দিলেই প্রার্থীকে পাশ করিয়ে দেন, লাইসেন্স নিতে পুলিশ রিপোর্ট দরকার হয় না। দালাল নুরুল ইসলামকে টাকা দিয়েই অনেক রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে সরকারি ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিআরটিএ অফিসের অঘোষিত শাখা অফিস করেছে কক্সবাজার থানা রোডে পেছনে দালাল নুরুল ইসলামের ভাড়াবাসাকে। কক্সবাজার বিআরটিএ অফিস ঘিরে আরো অন্তত ১৫/২০ জন উপর দালাল সৃষ্টি করেছে নুরুল ইসলাম। তার সাথে উপ-দালাল হিসেবে রয়েছে, একটি মোটরসাইকেল কোম্পানির শোরুমে চাকরিরত মিশন নামের এক ব্যক্তি। তিনি মোটরসাইকেল যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থী সংগ্রহ করেন। চুক্তি করেই এসব লাইসেন্স অনিয়মের মাধ্যমে করিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও ভুঁয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেয়ারও অভিযোগ আছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, প্রতিমাসে দুটি ড্রাইভিং বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় ৫০ জন করে প্রতি মাসে অন্তত ১’শ জন এই দালাল নুরুল ইসলাম এর মাধ্যমে লাইসেন্স করা প্রতি মাসে অন্তত ১’শ জন ব্যক্তিকে নতুন লাইসেন্স করিয়ে দেন এই নুরুল ইসলাম। প্রতি মাসে এই খাত থেকে হাতিয়ে নেয় অন্তত দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা ।

কক্সবাজার বিআরটি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পেশাদার লাইসেন্স করতে সরকার পায় প্রথমে ৩৪৫ টাকা, আর টেস্ট বোর্ডের পরীক্ষার পর পাশ করলেই লাইসেন্সের জন্য জমা দিতে হয় ৬৭৯ টাকা। পুরো লাইসেন্স পেতে সরকার পায় মাত্র ২ হাজার চব্বিশ টাকা । আর অপেশাদার লাইসেন্স করতে সরকার পায় ৩৪৫ টাকা ও ২৫৪২ টাকা। মূল লাইসেন্স ফিসহ সব মিলিয়ে সরকার পায় ২৮৮৭ টাকা । কিন্তু দালাল চক্রের মাধ্যমে জনপ্রতি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। গত চার বছরে বিআরটিএ অফিসে দালালি করে কয়েক কোটি টাকা মালিক হয়েছে এই শীর্ষ দালাল নুরুল। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, গরীর মানুষ, ড্রাইভিং চাকরী নাই বলে বিআরটিএ অফিসে এসে লোকজনকে সহযোগীতা করে জীবন চালাচ্ছি।

সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় নতুন করে আরো ৩ হাজার সিএনজির লাইসেন্স দেয়ার জন্য অনুমোদন পেতে আরটিসি কমিটির (রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি) কাছে জোর তদবির চালাচ্ছে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) উথোয়ানো চৌধুরী। এই আরটিসি’র সদস্য সচিব হচ্ছেন তিনি। ইতোপূর্বে আরো ২ হাজার সিএনজির লাইসেন্স দেয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিল আরটিসি। কিন্তু মোটা অংকের টাকার প্রায় সিএনজির লাইসেন্স কক্সবাজার বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও যাতে এধরনের কান্ড না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার দাবী জানিয়েছেন জেলার মোটরযান মালিকরা।

বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেল এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) উথোয়ানো চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নুরুল ইসলাম অফিসের কোন স্টাফ নয়, তবে সে সব কিছু জানে বিধায় অফিসের প্রয়োজনে তাকে রাখা হয়েছে। নুরুল ইসলাম যদি কোন অনিয়ম করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।- সুত্র নিউজ কক্সবাজার

Comments Below
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ