বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

ক্যানসার বাড়ার কারণ

  • সময় শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

জাকিয়া সুলতানা।পরিবারের সদস্যদের কাছে পরিচিত ছিলেন জাকি নামেই। ছোট বেলায় মাকে হারিয়ে সংসারের হাল ধরেন। বিয়েও হয়ে যায় অল্প বয়সেই। স্বামী-সংসার সামলিয়েছেন দুই হাতে। নিজে শিক্ষিত না হলেও সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। সবে জীবনটা তার সামলে উঠেছিল। সন্তানরা সংসারের হাল ধরার চেষ্টায় ছিলেন।
ঠিক এ সময় ৪৮ বছরের এই নারীর জীবনে হানা দেয় ঘাতক ব্যাধি ক্যানসার। শুধু একটি মানুষের জীবনই নয়, তছনছ হয়ে যায় পুরো একটি পরিবার পরিবারের স্বপ্ন।

ক্যানসার এমন এক রোগ যা ব্যক্তির পাশাপাশি পুরো পরিবারের আর্থিক সংগতিতেও আঘাত হানে। তার ছেলে জহিরুল ইসলাম চন্দন বলেন, আমরা পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও মানসিকভাবে সবাই প্রস্তুত হই দ্রুতই। লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। গত বছর আমাদের কোনো ঈদ ছিল না। আমাদের কোরবানি ছিল লঞ্চে লঞ্চে। ঢাকায় আসি। এরপর এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল। একের পর এক টেস্টের কারণে মা’কে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বিলম্ব হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সিট পেতেও পোহাতে হয় দুর্ভোগ। শেষ পর্যন্ত সিটের ব্যবস্থা হয়। চিকিৎসকরা অবশ্য তার ক্যানসারের জন্য ভুল চিকিৎসাকে দায়ী করেন। এই লড়াইয়ে হেরে যান জাকিয়া সুলতানা। দুই মাস ১০ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ইন্তেকাল করেন তিনি। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। চিকিৎসকরা এর জন্য পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসকে দায়ী করেছেন।

সাঈদার বয়স মাত্র ১১ বছর। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি বগুড়া। দেড় বছর আগে তার ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসেছেন বাবা মুস্তাক আলী। তার পরেও মনোবল হারাননি। ভেঙ্গে পড়েননি মানসিকভাবে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাহায্য তুলে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসাবাবদ প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেমোথেরাপির পার্শপ্রতিক্রিয়ায় তার একটি চোখের আলো অনেকটা ফুরিয়ে এসেছে। অপর চোখটিতেও কম দেখতে পায়। তার বাবা বলেন, এখন তো আর পারি না। আগে যারা সাহায্য সহযোগিতা করতো তারাও এখন অনেকটা এড়িয়ে চলে। বাধ্য হয়ে স্কুল, কলেজ ও মসজিদ মাদ্রাসায় সাহায্য তুলি। বয়স কম হওয়াতে চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেছেন নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে থাকলে সাঈদা হয়তো সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে। এখন দুই শতাংশ জমির ওপর নিজের বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares