বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্ধ হলো  ৪১ এনজিও’র কার্যক্রম! নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফ্রেন্ডশিপ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ, আল মারকাজুল ইসলাম, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, গ্রামীণ কল্যাণ, অগ্রযাত্রা, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট, আল্লামা আবুল খায়ের ফাউন্ডেশন, ঘরনী, ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, পালস, মুক্তি, বুরো-বাংলাদেশ, এসএআর, আসিয়াব, এসিএলএবি, এসডব্লিউএবি, ন্যাকম, এফডিএসআর, জমজম বাংলাদেশ, আমান, ওব্যাট হেলপার্স, হেল্প কক্সবাজার, শাহবাগ জামেয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম অরফানেজ, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স, লিডার্স, লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব জোনাল অ্যাপ্রোচ ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান এইড অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিশ, হোপ ফাউন্ডেশন, ক্যাপ আনামুর, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইনকরপোরেশন, গরীব, এতিম ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও।

সুবিধা থেকে বঞ্চিত সিলেটের ৬০০ বিদ্যালয়ে

  • সময় মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে
  •  
  •  
  •  
  •  

আলোকিত ডেস্কঃ

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ দুধের স্বাদ যেমন পানিতে মেটে না, তেমনি খেলাধুলা ছাড়া পূর্ণতা পায় না শৈশব। যান্ত্রিক আগ্রাসনে ছেদ পড়েছে দুরন্ত শৈশবের চঞ্চলতায়। শিক্ষার্থীদের জীবন এখন বিদ্যালয়ের চার দেয়ালে ব’ন্দি। তাই ইট-পাথরে শৈশব-কৈশোর হয়ে উঠছে রংহীন, রসহীন।

শিক্ষাজীবনে চিত্ত-বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম খেলাধুলা। কিন্তু মাঠের অভাবে সিলেটের শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। খেলাধুলার বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার কিংবা মোবাইল গেম।বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পিউটার কিংবা মোবাইল গেম খেলতে গিয়ে শি’শু কি’শোরদের ইন্দ্রিয় এক স্থানে স্থির হয়ে থাকে। যার প্রভাব পড়ে মানসিক বিকাশেও।

এক সময় সিলেটের চারপাশে ছিল সবুজের সমা’রোহ। বিস্তৃত ছিল খেলার মাঠ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ছিল পারদর্শী। কিন্তু অ’পরিক’ল্পিত নগরায়ন ও শিক্ষাব্যবস্থা বাণিজ্যিক হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের জীবন এখন চার দেয়ালে ব’ন্দি।শিক্ষার্থীদের সকালে ঘুমকাতুর অবস্থায় বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয়। তারপর রুটিন মাফিক সারাদিনের কাজ। ফলে সিলেটের মতো দেশের বড় শহরের শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠছে চিত্ত-বিনোদন ও খেলাধুলা ছাড়াই।

সিলেট জে’লা শিক্ষা কর্মক’র্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সিলেটের ১২টি উপজে’লায় ৬০৫টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় খেলার মাঠ নেই।এর মধ্যে সিলেট সদর উপজে’লায় ১৩৯, দক্ষিণ সুরমায় ৬৩, ফেঞ্চুগঞ্জে ১৯, বালাগঞ্জে ৫২, বিশ্বনাথে ৪৭, গোলাপগঞ্জে ৫৩, বিয়ানীবাজারে ৬৫, গোয়াইনঘাটে ৩৭, জকিগঞ্জে ৪৯, কানাইঘাটে ৩৮, কোম্পানীগঞ্জে ২১ ও জৈন্তাপুর উপজে’লায় ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত ৬৬, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ১৫৩ এবং এমপিওভুক্ত ৩৮৬ বিদ্যালয় রয়েছে।বিধি অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনে মেট্রো এলাকায় দশমিক ২৫ একর, পৌর ও শিল্প এলাকাতে দশমিক ৩০ একর, মফস্বলে দশমিক ৭৫ একর জমি থাকা আবশ্যক। কিন্তু এ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সিলেটে অসংখ্য বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে।

বিশেষ করে শিক্ষা বাণিজ্যের কারণে বাসা-বাড়িতে স্কুল কলেজ গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না মুক্ত আকাশ এবং সবুজ খেলার মাঠ।জে’লার বিভিন্ন স্থানে যে সব খেলার মাঠ বা খালি জায়গা দেখা যায়। সেখানে প্রতিনিয়তই গড়ে উঠেছে ইম’রাত। ফলে খেলাধুলার পাশাপাশি শরীরচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সিলেটের ওয়েসিস হসপিটালের চিকিৎসক ডা. রেদওয়ান আফরোজ তানিন বলেন, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের সামনে বেশিক্ষণ দৃষ্টি থাকলে ইন্দ্রিয় এক স্থানে স্থির হয়ে থাকে। বিশেষ করে শি’শু -কি’শোররা একাধারে এভাবে বসে থাকলে তাদের মনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। কখনও মানসিক চাপ থেকে শি’শু-কি’শোররা অ’সুস্থ হতে পারে।এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

নগরীর রায় নগরের বাসিন্দা রাজু আহম’দ বলেন, শৈশব-কৈশোরে পড়ালেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে খেলাধুলা করেছি। কিন্তু আমা’র সন্তানরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।নগরীর উপশহর এলাকার আরেক অ’ভিভাবক আব্দুস সাত্তার আজাদ বলেন, শি’শুদের বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, এমনকি শরীরচর্চা (পিটি) করার স্থানও নেই। প্রতিযোগিতার পেছনে ছুটতে গিয়ে একঘেঁয়েমিতে কাটছে তাদের শৈশব। এর প্রভাব পড়ছে শি’শুর মানসিক বিকাশে।

সিলেটের বাফুফে ফুটবল একাডেমির অর্গানাইজিং সেক্রেটারি এবং ডিস্ট্রিক্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহি উদ্দিন সেলিম বলেন, খেলাধুলা শরীরচর্চা পড়ালেখার একটি অংশ। নগরীর সবকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে কোনো খেলার মাঠে নেই। নেই হাঁটাহাঁটি করার মতো পর্যাপ্ত স্থানও।

মাহি উদ্দিন সেলিম বলেন, সরকার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার আগে দেখা প্রয়োজন মাঠ ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে কি না। স্কুল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় সৃষ্টি না হওয়ায় আম’রা খেলাধুলায় পিছিয়ে রয়েছি।সিলেট জে’লা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জে’লা প্রশাসক কাজী এম’দাদুল ইস’লাম বলেন, নগরীতে স্কুল পর্যায়ে মাঠ থাকার নিয়ম-নীতি কেউ মানছে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সঠিক বিকাশের জন্য নীতি-নির্ধারকদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Comments Below
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ