বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্ধ হলো  ৪১ এনজিও’র কার্যক্রম! নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফ্রেন্ডশিপ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ, আল মারকাজুল ইসলাম, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, গ্রামীণ কল্যাণ, অগ্রযাত্রা, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট, আল্লামা আবুল খায়ের ফাউন্ডেশন, ঘরনী, ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, পালস, মুক্তি, বুরো-বাংলাদেশ, এসএআর, আসিয়াব, এসিএলএবি, এসডব্লিউএবি, ন্যাকম, এফডিএসআর, জমজম বাংলাদেশ, আমান, ওব্যাট হেলপার্স, হেল্প কক্সবাজার, শাহবাগ জামেয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম অরফানেজ, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স, লিডার্স, লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব জোনাল অ্যাপ্রোচ ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান এইড অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিশ, হোপ ফাউন্ডেশন, ক্যাপ আনামুর, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইনকরপোরেশন, গরীব, এতিম ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও।

দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী সিলেট

  • সময় সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে
  •  
  •  
  •  
  •  

আলোকিত ডেস্কঃ

ডিজিটাল সিলেট সিটি’র উদ্বোধন হলো ২৮ জুলাই। এ প্রকল্পের আওতায় চালু হয়েছে ‘পাবলিক ওয়াই-ফাই জোন’, ‘সার্ভিলেন্স সিস্টেম’ এবং ‘অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেম’। বিস্তারিত ইয়াহইয়া ফজলের কাছে

ভাবুন তো এমন একটি নগরের কথা, যেখানে দিনে কিংবা রাতে আপনি নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ভয় কাজ করছে না, ইন্টারনেটে ঢু মারার জন্য নগরের বিভিন্ন স্থানে আছে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন। বিদ্যুৎ বিল, পানি, গ্যাস বিলের মতো রক্ষণাবেক্ষণ বিল দিতে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অনলাইনে ঘরে বসেই এসব ঝামেলা চুকিয়ে ফেলতে পারবেন। হাসপাতালে সিট খালি আছে কি না জানা যাবে সহজে। ঘরের পাশে পড়ে থাকা ময়লা জমে আছে।

অনলাইনে অভিযোগ করুন, কাজ হয়ে যাবে ম্যাজিকের মতো। এমন একটি ডিজিটাল নগর আমাদের দেশ! বিশ্বাস হয়? এমন এক স্বপ্নের নগর বাস্তবে হতে যাচ্ছে। আর পরীক্ষামূলকভাবে সেটি হচ্ছে সিলেটে। ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ নামে পাইলট প্র্রকল্পটি সফল হলে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য নগরকেও গড়ে তোলা হবে এভাবে।

নাগরিক নিরাপত্তা সবার আগে
‘ডিজিটাল সিটি’ প্রকল্পে নগরের ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সবার আগে নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নজরদারিতে বসানো হচ্ছে চেহারা ও যানবাহনের নাম্বার প্লেট চিহ্নিত করতে সক্ষম আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা। এ ধরনের ক্যামেরার ব্যবহার দেশে এই-ই প্রথম। নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১১০টি আইপি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।

এই আইপি ক্যামেরাগুলো কাজ করবে তিন ভাগে। ৯০টি ক্যামেরা নজরদারির জন্য। বাকি ২০টি ক্যামেরার ফিচার একটু ভিন্ন। ১০টি অটো নাম্বার প্লেট রিকগনিশনে (এএনপিআর) সক্ষম। এগুলোর সাহায্যে বাইরে থেকে আসা এবং বের হয়ে যাওয়া যানবাহনের নাম্বার প্লেট চিহ্নিত করা হবে। বাকি ১০টি ক্যামেরা ফেসিয়াল রিকগনিশন বা ডিটেকশনে সক্ষম। এগুলো মানুষের চেহারা শনাক্ত করতে পারে।

ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরাগুলো প্রাথমিকভাবে নগরে প্রবেশপথ ওয়ানওয়ে টার্মিনালে বসানো হচ্ছে। এর মধ্যে আছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। নগরের দক্ষিণ সুরমায় কদমতলীতে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণকাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে সেখানেও আইপি ক্যামেরা বসানো হবে। একইভাবে সব ধরনের যান চলাচলের ওপর নজরদারির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি ফেসিয়াল রিকগনিশন বা ডিটেকশন ও অটো নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) ক্যামেরা বসানো হবে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে।

এসব আইপি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণের জন্য কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হবে সিলেট মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে। আধুনিক বিশ্বে অপরাধ দমনে এ ধরনের আইপি ক্যামেরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব আইপি ক্যামেরা ও কন্ট্রোলরুম স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকা।

বিনা মূল্যেই মিলবে ওয়াই-ফাই
নগরের ব্যস্ততম বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, রিকাবিবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ৬২টি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই প্রকল্পের আওতায় বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই জোন তৈরি করা হবে। এসব জোনে ১২৬টি ওয়াই-ফাই এক্সেস পয়েন্ট (এপি) থাকবে। বিনা মূল্যের এ ইন্টারনেট সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব এক্সেস পয়েন্টের একেকটিতে একসঙ্গে ৫০০ ব্যবহারকারী যুক্ত থাকতে পারবেন। এর মধ্যে ১০০ জন একসঙ্গে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টে ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট বা সেকেন্ড (১০ এমবিপিএস)। আর একেকটি এক্সেস পয়েন্টের আওতা থাকবে চতুর্দিকে ১০০ মিটার—অর্থাৎ প্রায় ৩০০ ফুট করে।

যেকোনো ব্যক্তি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। বিদেশি পর্যটকরাও বিনা মূল্যে এই সুবিধা পাবেন। তবে নিরাপত্তার জন্য মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে যুক্ত হতে হবে। যুক্ত হওয়ার প্রথম ধাপে মোবাইল বা ল্যাপটপে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ফিরতি এসএমএসে একটি কোড আসবে। পরে সে কোডটি ইনপুট করলেই লগইন হয়ে যাবে। তবে বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব ধরনের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন না ব্যবহারকারীরা। ফিল্টারিং করা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন তাঁরা। এ ছাড়া ডাউনলোডেও থাকবে সীমাবদ্ধতা। ব্যবহারকারীর সব তথ্য জমা হবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডাটা বেইসে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ের তদারকি করবে সিলেট সিটি করপোরেশন।

২০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে অটোমেশন
সিলেট নগরের ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অটোমেশন ব্যবহার করা হবে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নিতে অভিভাবকদের আর স্কুল পর্যন্ত যাওয়ার দরকার পড়বে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পারফরম্যান্স ও সবার নৈমিত্তিক কার্যক্রম অনলাইনেই জানা যাবে।

হেলথ ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
সিলেট নগরে সরকারি হাসপাতালের বেড আছে কি না? রোগীর আগের চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থাপত্র, টেস্ট রিপোর্ট—এ সব কিছুই অনলাইনে জানতে পারবেন চিকিৎসকরা। পরীক্ষামূলকভাবে নগরের ১০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে হেলথ ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল, টিবি হাসপাতালসহ বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন করা হবে।

নগরে ৩৬ কম্পিউটার লিটারেসি সেন্টার
নগরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দিতে ৩৬টি কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টারের প্রতিটি ল্যাবে আট থেকে ১০টি কম্পিউটার থাকবে। শুরুতে এসব কম্পিউটার কেন্দ্র সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ৯ কাউন্সিলরের দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় স্থাপনের চিন্তা থাকলেও সে চিন্তা থেকে সরে এসেছে সরকার। বিকল্প হিসেবে বর্তমানে এসব বিনা মূল্যের কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সিলেট নগরের ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোঁজা হচ্ছে। এসব কেন্দ্র তদারকি করবে সিলেট সিটি করপোরেশন।

সিটিজেন সার্ভিস উন্নয়ন
ডিজিটাল সিলেট সিটির নাগরিকরা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল, কর—সবই পরিশোধ করতে পারবেন অনলাইনে। অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব সুবিধা এক জায়গায় নিয়ে আসা হচ্ছে। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স, ভবন নির্মাণ, পানির লাইনসহ সব ধরনের সেবার আবেদন যেমন করতে পারবেন, তেমনি বাড়ির পাশে জমে থাকা ময়লা যথাসময়ে না সরানো হলে সে বিষয়েও অভিযোগ দিতে পারবেন ঘরে বসেই। জানতে পারবেন আবেদন ও অভিযোগের সর্বশেষ অবস্থাও।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি উন্নয়ন
পর্যটন নগর সিলেটে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে। সহজে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে এতে। পর্যটকরা হোটেল বুকিং দেওয়াসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন এলাকার দিকনির্দেশনা পাবেন সেখানে। এ ছাড়া নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল টেলিফোন ডিরেক্টরিও করা হচ্ছে। যেখানে নগরের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ পেশাজীবীদের নাম্বার যুক্ত থাকবে। ফলে এসব পেশাজীবীর সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবেন সেবাগ্রহীতারা। এ প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে সিলেট নগরের প্রবাসীদের তথ্য হালনাগাদ করা হবে। প্রবাসীদের বাড়তি সুবিধা দিতে বিভিন্ন সেবা সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হবে। এসব তথ্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) ডাটা বেইসে সংরক্ষণ করা থাকবে। ফলে প্রবাসীরা দেশে এলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। প্রবাসীরা বিদেশে বসে বাসার বকেয়া বিলসহ সব ধরনের তথ্যও জানতে পারবেন। বিদেশে থেকেই পরিশোধ করতে পারবেন সব ধরনের বিল।

পূর্ণাঙ্গতা পাবে আগামী বছর
আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রকল্প পরিচালক, সহকারী প্রকল্প পরিচালক।

এই প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (ডিপিপি) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের সেন্টার ইনচার্জ ও প্রগ্রামার মধুসূদন চন্দ বলেন, ‘ডকুমেন্ট অব প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) তথ্য অনুযায়ী এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানো হলে আশা করছি ২০২০ সালের জুনের পরেই নগরের বাসিন্দারা প্রযুক্তিগত সব আধুনিক সুবিধা ভোগ করতে পারবে।’

Comments Below
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ