রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মিয়ানমারের কাছে নতিস্বীকার করেছে সরকার: ফখরুল এক মাস পিছিয়ে গেলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা ‘দেশের স্বার্থ রক্ষা করে সাংবাদিকদের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করতে হবে’ উখিয়া -টেকনাফে দুই বছরে বন্দুক যুদ্ধে ৩২ রোহিঙ্গা নিহত রামুতে অপহরণের ২দিন পর ৫ম শ্রেণির ছাত্রী উদ্ধার ॥ আটক ২ মাহবুবুল হক মুকুল কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোহিঙ্গাদের জন্ম ও নাগরিকত্ব সনদ দিলেই মামলা স্বামী বেশী ভালবাসা দেওয়ার কারণে, তালাক চাইলেন স্ত্রী উখিয়ারঘোনা লামার পাড়া পুরাতন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন বরিশালের হিজলাতে আইভি রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত । বরিশালের মুলাদীতে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আয়েশা আক্তার নামে এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায় এক যুবক।। উখিয়ায় জোরপূর্বক জমি জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা, আহত-৪ সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত ‘রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে’ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস বন্ড সিরিজের ২৫তম মুভির নাম চূড়ান্ত শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের প্রতি সর্বজনের শেষ শ্রদ্ধা দেড় কিঃমিঃ রাস্তা পরিষ্কার করলো এফ.বি এসোসিয়েশন ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলার নজির নেই’ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ছাত্রদল নেতা মোঃ কেফায়ত উল্লাহ’র শুভেচ্ছা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করাই উত্তম: তাজুল ইসলাম আধুনিক চ্যালেঞ্জের মুখে সন্তান প্রতিপালনের দশটি দিক নির্দেশনা। মহেশপুরে সাতপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন-এমপি চঞ্চল। মোজাফফর রাজনীতিকে এতিম করে চলে গেলেন : মোমিন মেহেদী ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ টেকনাফে ফারুক হত্যায় জড়িত ২ রোহিঙ্গা বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৮দিনের সরকারী সফরে দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড যাচ্ছেন মেয়র মুজিবুর রহমান অফিসেই নারীকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জামালপুরের ডিসি! মুখের কালো দাগ দূর করবেন যেভাবে রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত

ভারত সরকারকে কাশ্মীরিদের ৮ মিনিটের চ্যালেঞ্জ

  • সময় শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

ভারত সরকারকে মাত্র ৮ বা ১০ মিনিটের জন্য কারফিউ প্রত্যাহারের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কাশ্মীরিরা। বর্তমানে কাশ্মীরে অবস্থানরত বিবিসি সাংবাদিক শুভজ্যোতি ঘোষ এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের ফলে কাশ্মীর এখন মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির সাংবাদিক শুভজ্যোতি ঘোষ।
বুধবার শুভজ্যোতি ঘোষ শ্রীনগরে পৌঁছান। কিন্তু প্রথম ২৪ ঘন্টায় অনেক চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি বিবিসি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) অল্প সময়ের জন্য তিনি কথা বলতে পেরেছিলেন লণ্ডনে সহকর্মীদের সঙ্গে।
সেই কথোপকথনে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি,
শ্রীনগরে পা রাখার পর ২৪ ঘন্টারও বেশি পেরিয়ে গেছে, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন মৃত্যু উপত্যকায় এসে পৌঁছেছি।
রাস্তাঘাটে এক শ’ গজ পরপরই সেনা চৌকি আর কাঁটাতারের ব্যারিকেড। রাস্তায় যত না সাধারণ মানুষ, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সেনা আর আধা সেনা।

মানুষের ছোট ছোট কিছু জটলা। আমার হাতে বিবিসির মাইক দেখেই তারা এগিয়ে আসছেন কথা বলতে। ৩৭০ ধারা এবং কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রাতারাতি বিলুপ্ত হওয়ার পর তারা কতটা বিক্ষুব্ধ, সেটা তাদের চেহারাতেই স্পষ্ট।
কেউ কেউ তো বলছেন, দশ মিনিটের জন্য কাশ্মীরে জারি করা কারফিউ তুলে নেয়ার হিম্মত দেখাক সরকার, তারপরই তারা দেখবে দলে দলে কত মানুষ রাস্তায় নামে এর প্রতিবাদ জানাতে।
সরকারও সেটা নিশ্চয়ই জানে, তাই তো গোটা কাশ্মীর উপত্যকা এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে দেয়া হয়েছে।
ঝিলমের তীরে এখন যে স্তব্ধতা, সেটা যে ঝড়ের আগের, সেটা স্পষ্ট। কাশ্মীরে আমার এর আগেও আসা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনা-বিক্ষোভ-সংঘাতের খবর সংগ্রহ করতে।

কিন্তু এরকম অবস্থা আমি এর আগে কখনো দেখিনি। এর সঙ্গে যেন আগের কোনো কিছুর তুলনা চলে না।
কাশ্মীর এখন যেন এক মৃত্যুপুরী। রাস্তাঘাটে কোনো লোকজন নেই।
পুরো রাজ্য জুড়ে আছে প্রায় আড়াই লাখ ভারতীয় সেনা। টানা কারফিউ জারি রয়েছে। দোকানপাট বন্ধ।
অনেকের বাড়িতেই খাবার ফুরিয়ে গেছে, রেশন ফুরিয়ে গেছে। কেনাকাটার জন্য তারা সাহস করে কেউ কেউ বেরুচ্ছেন, কিন্তু কিছু কেনার মতো কোন দোকান খোলা নেই।

ব্যাপক ধরপাকর:
শ্রীনগরের যেসব জায়গায় আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে পুরো শহর জুড়ে একটা থমথমে পরিবেশ। চারিদিকে আতংক, ক্ষোভ।
রাজনীতিবিদদের প্রায় সবাই কারাগারে কিংবা গৃহবন্দী। গুপকার রোড, যেখানে থাকেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বা মেহবুবা মুফতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকরা, সেখানে কাউকে ঢুকতেই দেয়া হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সকালে আমরা বার বার চেষ্টা করেও সেদিকে যেতে পারিনি। ডাল লেকের ধারে গভর্নর হাউস, সেদিকেও যেতে দেয়া হচ্ছে না। গুজবের শহর হয়ে উঠেছে শ্রীনগর। নানা জায়গায় বিক্ষোভ চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু শ্রীনগরের কোথাও বিক্ষোভ আমাদের চোখে পড়েনি।

একটা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে অনেক ট্যাক্সি চালক বসে ছিলেন। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা বললেন, এখানে কী করছেন। বেরামিতে যান। ওখানে দশ হাজার বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। লোকজন পথে নেমে বিক্ষোভ করছে।

কিন্তু এগুলো সব শোনা কথা। সত্যিই এরকম কিছু ঘটছে কী না তা যাচাই করার কোন উপায় নেই।

বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ:

কাল যখন আমি এয়ারপোর্টে নামার পর গাড়ির দিকে যাচ্ছি তখন কিছু লোক বোধহয় আমার বিবিসির পরিচয়পত্র দেখেছেন। তারা কথা বলতে এগিয়ে আসেন।

৩৭০ ধারা এবং কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনায় এরা যেভাবে তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তারা আমাকে বললেন, পার্লামেন্টে অমিত শাহ দাবি করেছেন যে, কাশ্মীরের আশি শতাংশ মানুষ নাকি এটি সমর্থন করে। যদি তাই হবে, সরকার কেন মাত্র আট মিনিটের জন্য কারফিউ তুলে দিচ্ছে না। কারফিউ তুলে নিক, তারপর তারা দেখতে পাবে কীভাবে মানুষ রাস্তায় নামে প্রতিবাদ জানাতে।

তারা হাসপাতালে যেতে পারছে না। অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা চিকিৎসা পাচ্ছে না। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনতে পারছে না। সব জায়গায় গিজ গিজ করছে সেনা।

মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ। ইন্টারনেট বন্ধ। ল্যান্ডলাইনও কাজ করছে না।

এদের কেউ কেউ আমাদের আর্জি জানালেন, দয়া করে কাশ্মীরের এই ছবিটা গোটা পৃথিবীকে জানান।

একটা বিষয় পরিস্কার। যেরকম বিপুল সংখ্যায় কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তার কারণে কেউ এখন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে পারছে না। কিন্তু পরে পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে, সেটা বলা মুশকিল।

অঘোষিত জরুরি অবস্থা:

কাশ্মীরে এখন কার্যত একটা অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে।

এখানকার কোন নিউজ পোর্টাল রোববারের পর আর আপডেট করা হয়নি, কারণ ইন্টারনেট বন্ধ। আমি কয়েকটি সংবাদপত্র অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে কেউ নেই। কোনো পত্রিকা বেরুতে পারছে না।

দিল্লি বা জম্মু থেকে প্রকাশিত কিছু সংবাদপত্র এখানে এসেছিল আজ সকালে। নিমেষে সেগুলো উড়ে গেল। এগুলো কিন্তু তিন দিনের বাসী সংবাদপত্র। বলা হচ্ছে, এগুলোতে নাকি সেন্সরের কাঁচি পড়েছে জোরেশোরে।

তারপরও মানুষ এগুলো পড়ছে, যেহেতু আর কোনো জানার সূত্র নেই। বলা যেতে পারে কাশ্মীরে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠ একরকম রোধ করেই রাখা হয়েছে।

(সূত্র : বিবিসি)

Comments Below

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ

Shares