সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
একজন আল মাহমুদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে : স্পিকার সিলিন্ডারে গ্যাস কতটুকু আছে জানার সহজ উপায় ইউআইইউতে স্পিড মার্কেটিং সামুরাই কমপিটিশন অনুষ্ঠিত তামিমের জায়গায় জহুরুল না সাইফ? ৮০টির পর্যালোচনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪৭ : ডেথ রিভিউ কমিটি শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে প্রোফাইল ছবি দিয়ে লগইন বন্ধ করুন ঢাকায় আসছে বিশ্বসেরা ইয়ান্নি অর্কেস্ট্রা ও স্করপিয়ন্স লামায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে কুতুবউদ্দিনের বাগানে হামলার অভিযোগ রাখাইনে বিমান হামলা, ব্যাপক গোলাবর্ষণ সাঘাটার পরিশ্রমী শিল্পি বেগম এর গল্প ।। পলাশবাড়ীতে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের শুভ উদ্বোধন ।। পাইকগাছায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে এমপি – বাবুর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ২৭শে অগাস্ট বিশাল শোক র‍্যালী ও শোক সভার আয়োজন করতে যাচ্ছে কৃষকলীগ কক্সবাজার জেলা। পাইকগাছায় শিববাটি ব্রিজের টোল মুক্ত ও শিবসা নদী খননের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে গোবিন্দগঞ্জ থানা জুলাই মাসে ৮ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়ায় চিকিৎসক ও ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে ১৬ লাখ টাকাসহ মোবাইল নিয়ে উধাও হওয়া প্রতারক গ্রেফতার রাখাইনে তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৫৩ রোহিঙ্গা: সংকট বাড়ছে, কমছে শরণার্থীদের জন্য অর্থ মহেশখালীতে চলাচলের রাস্তা না থাকায় ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে লাশ বহন ! নাগরিকত্ব দিলে একসঙ্গে মিয়ানমারে ফিরব, ঘোষণা রোহিঙ্গাদের অষ্টম শ্রেণি পাসেই নিয়োগ দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দেয়ার নির্দেশ উখিয়ায় উদ্ধার গুলিবিদ্ধ লাশের পরিচয় মিলেছে ১০ বছর মেয়াদি ইলেকট্রনিক্স পাসপোর্ট মিলবে তিন দিনের মধ্যেই ঢাকায় গাঁজার নিয়ন্ত্রণ ১০ মহাজনের হাতে মাহী বি চৌধুরীকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ গফরগাঁওয়ে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

কক্সবাজারে ৫২টি কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা বেড়েছে, কমেনি ইজারাদারদের দৌরাত্ম

  • সময় বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্কঃ
ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা ৫২টি কোরবানির পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। দিনদিন বাড়ছে পশু কেনা বেচা। তবে বেচাকেনা বাড়লেও দাম কমেনি। খামারী ও কৃষকরা বিভিন্ন পশুরহাটে যাচ্ছেন কোরবানির গরু-ছাগল নিয়ে। ভারতীয় এবং মিয়ানমারের গরু নিয়েও হাটে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এবার কক্সবাজারের বিভিন্ন পশুরহাটে ভারতীয় গরুর আমদানি কম। তবে ভারতীয় মহিষের আমদানি মোটামুটি। মিয়ারমার থেকেও প্রচুর গরু আমদানী করা হয়েছে। তবে দেশীয় পশুর বাজার ধরে রাখতে গত ৫ আগস্ট থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন । এতে করে কোরবানির পশু সংকটের আশংকা করা হচ্ছে।

এছাড়াও সদরের খরুলিয়া বাজার, পৌরসভার খুরুস্কুল রোডের বাজার, ঈদগাও বাজার ও চকরিয়া গরুর বাজার ইজারাদারদের দৌরাত্মও বেড়েছে দ্বিগুন। যে যার ইচ্ছে মতো ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছ থেকে টোল (হাসিল) নিচ্ছে বলেঅভিযোগ।

জানা যায়, কক্সবাজারে কোরবানির পশুরহাটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কক্সবাজার খরুলিয়া বাজার, ঈদগাঁহ বাজার, মরিচ্যা বাজার, রামু বাজার, কলঘর বাজার, টেকনাফ, উখিয়া বাজার, গর্জনিয়া বাজার এবং চকরিয়ার গরু বাজারসহ ছোট বড় অন্তত ৫২টি পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটের মধ্যে আয়তন ও বেচাকেনায় সদরের খরুলিয়া বাজার সব চেয়ে বৃহৎ।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরু, মহিষ ও ছাগলের নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। এবার কুরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। সেদিকে খেয়াল রেখেই হাটে পশু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে পশু যেমন আসছে, তেমনি ভাবে ক্রেতারাও দলবেঁধে আসছে। তবে অনেক ক্রেতা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর পশুর দাম একটু বেশি।
সংশ্লিষ্ট হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারও কোরবানিতে প্রাধান্য পাচ্ছে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। কক্সবাজারে এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার বেশি কোরবানির পশু থাকায় দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে এবারও কক্সবাজারের খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে গবাদিপশু লালন পালন করা হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় এবার খামারীদের খরচ একটু বেশি পড়ছে। ফলে গতবারের তুলনায় এবার গরু-ছাগলের দাম একটু বেশি পড়বে বলেও জানান তারা।

গতবছর কক্সবাজারে চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশুর পরিমাণ বেশি ছিল। যে কারণে শেষের দিকে এসে অনেক খামারীকে লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করতে হয়েছে। এরকম বেশকিছু খামারী লোকসানের কারণে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। যারা অধিক খরচ করে খামার টিকিয়ে রেখেছেন, তারা এবার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কিনা এ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কক্সবাজারে কোরবানির বড় পশুহাটগুলোর মধ্যে রয়েছে খরুলিয়া বাজার, ঈদগাঁহ বাজার, মরিচ্যা বাজার, উখিয়া বাজার, রামুর বাজার ও চকরিয়া বাজার।

কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় খরুলিয়া বাজারের গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, মাংসের বাজার হিসাবে কোরবানির গরুর দাম এখনো কমই রয়েছে। তারা বলেন, ছোট আকৃতির গরু এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরুর দাম ৭০ থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে এবং বড় গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

খরুলিয়া বাজারের ইজারাদার শালেক বলেন, কয়েক মাস হলো ভারত থেকে গরু এসেছে কম। মিয়ানমার থেকেও গরু আমদানী হয়েছে। বর্তমানে ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকে কোরবানির গরু আসছে। তবে এখনও দাঁতালো (কোরবানির উপযোগী) গরুর সংখ্যা কম। যাদের বাসায় গরু রাখার জায়গা আছে, কেবল তারাই এখন দামে সুবিধা হলে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম জানান, ইতিমধ্যে কোরবানীর পশু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্ম পরিকল্পনা চলছে। কক্সবাজারের জেলার জন্য চলতি বছর কোরবানীর পশুর চাহিদা (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) ইত্যাদি ১ লাখ ৫ হাজার। কক্সবাজারে স্থানীয় পর্যায়ে ১ লাখ ৮ হাজার পশু মজুদ আছে। হয়তো আরো বেশি হতে পারে। তবে একটা কথা আমরা দাবী নিয়ে বলতে পারি, কুরবানীর জন্য পশুর সংকট হবে না।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারে চলতি বছর ৫২ টি কোরবানীর পশুর বাজার বসবে এবং পশুর রোগ বালাই দেখতে ১৬ টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, দেশীয় পশুর বাজার ধরে রাখতে মিয়ানমার থেকে সকল প্রকার গবাদি পশু আমদানি মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রি করতে পারবে। উৎসাহিত হবে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা। জমে উঠবে স্থানীয় পশুর বাজার। মিয়ানমার থেকে পশু আসলে স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই দেশীয় পশুর বাজার ধরে রাখতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবার ৩ আগস্ট মিয়ানমার থেকে টেকনাফ করিডোর দিয়ে কোন পশু বাংলাদেশে আসেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণ কোরবানির পশু আমদানি করা হয়। মিয়ানমারের পশু এবং স্থানীয় খামারিদের পশু নিয়ে কোরবানি করতো কক্সবাজারের স্থানীয়রা। তখন রোহিঙ্গাদের চাপ ছিল না। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ঢল কক্সবাজার জেলায় আসা শুরু হলেও সেই বছর তেমন চাপ পড়েনি। তবে ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠী উখিয়া টেকনাফে কোরবানি দেয়। সেই বছর মিয়ানমার থেকে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি গরু আমদানি করা হয়। এতে টেকনাফ উখিয়াসহ পুরো জেলায় কোন পশুর সংকট দেখা দেয়নি।

জানা গেছে, টেকনাফ ও উখিয়ার প্রায় ৫ লাখ স্থানীয়দের জন্য কোরবানির পশুর প্রয়োজন প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার। আর ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজন ১৭ থেকে ২২ হাজার পশু। স্থানীয় এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০ হাজার থেকে ৩৭ হাজার পশু লাগবে। কিন্তু উখিয়া টেকনাফে স্থানীয় খামারিদের কাছে পশু রয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার পশু। আরো প্রয়োজন হতে পারে ২০ থেকে ২৫ হাজার পশু। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭১৭ টি। ফলে উখিয়া টেকনাফের সংকট মেটাতে পশুর প্রয়োজন আরো কমপক্ষে ১৩ হাজার। এই অবস্থায় মিয়ানমার থেকে আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় কোরবানির পশুর সংকট দেখা দেবে। এই সুযোগকে পুঁজি করে স্থানীয় অসাধু খামারি ও ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে পশুর দাম।

Comments Below

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ