শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্ধ হলো  ৪১ এনজিও’র কার্যক্রম! নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফ্রেন্ডশিপ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ, আল মারকাজুল ইসলাম, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, গ্রামীণ কল্যাণ, অগ্রযাত্রা, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট, আল্লামা আবুল খায়ের ফাউন্ডেশন, ঘরনী, ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, পালস, মুক্তি, বুরো-বাংলাদেশ, এসএআর, আসিয়াব, এসিএলএবি, এসডব্লিউএবি, ন্যাকম, এফডিএসআর, জমজম বাংলাদেশ, আমান, ওব্যাট হেলপার্স, হেল্প কক্সবাজার, শাহবাগ জামেয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম অরফানেজ, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স, লিডার্স, লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব জোনাল অ্যাপ্রোচ ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান এইড অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিশ, হোপ ফাউন্ডেশন, ক্যাপ আনামুর, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইনকরপোরেশন, গরীব, এতিম ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও।

সিঙ্গার শো-রুমে চাকুরী করে রহিম কোটি কোটি টাকার মালিক! দুদকের নজরদারী জরুরী

  • সময় রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
  • 183
  •  
  •  
  •  
    183
    Shares

আলোকিত ক্রাইম পতিবেদকঃ

পরিবারের অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। নুন আনতে পান্তা এক সময়কার টেকনাফে আট বছর আট হাজার টাকা বেতনে সিঙ্গার শো রুমে চাকরী করে তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক। একসময় নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরাত সে এখন সিঙ্গারে চাকুরী করে কিভাবে কোটি টাকার মালিক হল তা দুদককে খতিয়ে দেখার দাবী উঠেছে সচেতন মহলের।

শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এই রহিম উদ্দিন সারাজীবন সিঙ্গারের ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিনামুল্যে এনে দাম ধরে বিক্রি করলেও এতো টাকার মালিক হওয়া সম্ভব নয়, এমন দাবী স্থানীয়দের। সিঙ্গার শো রুমে চাকরি করে গত ৬/৭ বছরে শত কোটি টাকার মালিক হওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই।

তাঁর নাম মো. রহিম উদ্দিন। কিন্তু এই নামে তিনি তেমন পরিচিত নন। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া মুন্সিরবিল এলাকার মৃত আবদু শুক্কুরের ছেলে রহিম উদ্দিন ৩১ বছর বয়সী এই যুবক পরিচিত সিঙ্গার রহিম নামে। খরুলিয়া মুন্সিরবিল গ্রামে কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে তাদের কাছে জনদরদি সেজেছেন। এলাকায় নিজের প্রতিপত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং নিজেকে ‘সেভ’ রাখতে রহিমের এই কুটকৌশল। সিঙ্গার প্লাস শো রুমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে টেকনাফ থাকতেই এসবের আড়ালে তাঁর আসল কি ব্যবসা ছিল তা খতিয়ে দেখার দাবী উঠেছে।

এলাকাবাসী জানান, রহিম উদ্দিন ছোট বেলায় অর্থাভাবে বাতুশ শরফ এতিমখানায় ৪/৫ ক্লাস পড়ার পর খরুলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। অভাবের কারণে ২/১ বছর পর আর পড়া হয়নি তার। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে কক্সবাজার বাজারঘাটাস্থ সিঙ্গার শো-রুমে পেয়েছিলেন চাকরি। এক পর্যায়ে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন সিঙ্গার টেকনাফ শাখায় মাঝারি মানের কর্মকর্তা।

চাকরি সময় টেকনাফের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে পরিচয় ঘটে। এর মধ্যে বিভিন্ন ইয়াবা কারবারীদের সাথেও তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  টেকনাফ সিঙ্গার শো রুমে চাকরি করলেও তিনি নিয়মিত মোটরসাইকেল যোগে কক্সবাজার খরুলিয়া থেকে টেকনাফ আসা যাওয়া করতেন। চাকরিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সেখানেই পেয়েছিলেন ‘আলাদিনের চেরাগ’র সন্ধান! ওই আলাদিনের চেরাগটি ছিলো কি ছিল এখন প্রশ্ন সবার।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে টেকনাফে  একটি ইয়াবার চালান আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বহনকারীকে ইয়াবাসহ টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় রহিম উদ্দিনকেও  মামলা আসামি করে হলে সেই সময় টেকনাফ থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে কক্সবাজার চলে আসে। বিভিন্ন কায়দায় ওই মামলার চার্জসীট থেকে বাদ যান রহিম উদ্দিন। সেই সময় আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালান। মামলার চার্জসীট থেকে বাদ গেলেও এজাহারে তার নাম পাওয়া যাবে বলে দাবী করেছেন অনেকে।  কক্সবাজারে এসে বাস টার্মিনাল এলাকায় সিঙ্গার প্লাস নামের কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি শো-রুম খুলে বসেন তিনি। তবে টেকনাফ সিঙ্গার শোরুমে রহিম উদ্দিনের কর্মস্থলে তার ভাগিনা ইরহানকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সেখানে রহিম উদ্দিনের অধীনে আরো একটি সিঙ্গার শো-রুম খোলা হয় বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা দাবি করেন, রহিমের আপন ভাগিনা খরুরিয়া সিকদারপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে ইরহান টেকনাফ শো রুমে যোগদান করেন।  ইরহান বর্তমানে টেকনাফ অবস্থানরত। সম্প্রতি ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পুলিশের কাছে জমা দেয়া ঝিলংজার ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় ইরহানের নাম রয়েছে শীর্ষে।

কথিত রয়েছে, ভাগিনা ইরহানও এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। এমনকি মামা-ভাগিনা  প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ বার সফর করেছেন ইউরোপেসহ বিভিন্ন দেশ।  ওশান প্যারাডাইসের পেছনে একটি হোটেলে মাসিক রুম রয়েছে তার। সেখানে বসে তার সকল ব্যবসার চক আঁকা হয় বলে সুত্রে প্রকাশ।

ধারাবাহিকতায় টেকনাফ সিঙ্গার শোরুম থেকে দুটো নষ্ট ফ্রিজ সার্ভিসিং এর নামে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সিঙ্গার শোরুমে পাঠানো হয়। আর এই ফ্রিজের ভিতরে ছিল ইয়াবা। গত ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর রাতে কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-৭ এর একটি দল বাসটার্মিনালস্থ সিঙ্গার শো-রুম থেকে ইয়াবাসহ সিঙ্গারের বিক্রয় প্রতিনিধি আয়াছুর রহমানকে আটক করে। পরে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দিয়ে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী এলাকার আয়াছুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত শহরের বাসটার্মিনালস্থ সিঙ্গার শো-রুমে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

অভিযোগ ওঠেছে শো-রুম ম্যানেজার রহিম উদ্দিনের সহযোগিতায় ব্যবসার আড়ালে টেকনাফ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এনে প্রায় সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন আয়াছুর রহমান।

এছাড়াও চলতি বছর গত ৫ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সিঙ্গার শো-রুম থেকে ইয়াবা নিয়ে বের হওয়ার পরপরই সিঙ্গার শো রুমের সামনে থেকে ১৬০০ ইয়াবাসহ মোহাম্মদ ছলিম (২০) নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টিম। আটক পাচারকারী টেকনাফের হ্নীলা ৬নং ওয়ার্ডের লেচুয়াপ্রাং এলাকার মোহাম্মদ আলমের ছেলে। এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক শেখ আবুল কাশেম বাদী হয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা করেন। একের পর এক তার ইয়াবা চালান আটক হলেও বরাবরেই মুল ডন অধরাই রয়ে যাচ্ছে বলে ধারনা সচেতন মহলের।

অনুসন্ধানেে জানা গেছে, খরুলিয়া নিজ গ্রামে কিনেছেন অনেক জমি। মেরিন ড্রাইভ সড়কে তিনি ও তার ভাগীনা ইরহানসহ আরেক গডফাদার শাহজাহান মিয়া মিলে সাড়ে ৩ একর মূল্যবান জমি কিনেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি আছে, ৭টি টিআরএক্স, ভক্সি গাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর কাছে ভাড়া দিয়েছে।  কোথায় পেল এত টাকা ?

স্থানীয় সূত্রে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সিঙ্গারে চাকরি করলেও বহুদিন মা ও বোনকে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করেছিলেন রহিম। কিন্তু ২০০৭ সালে টেকনাফ শো রুমের নিযুক্ত হওয়ার পর হঠাৎ বদলে যায় জীবনচিত্র। তিনি দিনে দিনে হয়ে উঠছিলেন ‘টাকাওয়ালা’। বদলে যেতে থাকে তার ও তার পরিবারের লোকজনের হাল-হকিকত। ক্রমান্বয়ে মালিক হন অঢেল টাকার। গড়েছেন অঢেল সম্পদ। এই টাকা দিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় কিনেছেন বহু জমি। কক্সবাজার কলাতলী রোড়ে রয়েছে দুটো স্টুডিও এ্যাপার্টমেন্ট। এই অ্যাপার্মেন্ট স্টুডিও দুটির দাম অন্তত ৮৯ লাখ টাকা, রয়েছে একাধিক গাড়ি। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে রয়েছে বহু ডিপোজিট ও ব্যালেন্স।

একাধিক সূত্রের দাবি, রহিমের মেয়ের স্কুলের জন্য ড্রাইভারসহ একটি প্রাইভেট কার, রয়েছে তিনটি ডাম্পার। অন্যদিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় ৪ গন্ডা জমিতে রয়েছে ফ্যামিলি কোয়াটার। প্রাইম ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে রয়েছে ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা ফিক্স ডিপোজিট। কক্সবাজার শহরের আশেপাশের বিভিন্ন প্রামে নামে-বেনামে ক্রয় করেছেন ৩ একর জমি। নিজ এলাকায় রয়েছে আলিশান বাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, রহিম এলাকায় সিঙ্গার রহিম নামে পরিচিত। অর্থে-কষ্টের কারণে এক সময় তাদের ঘরে ঠিকমতো বাজার-সদাই হতো না। সিঙ্গারে চাকুরী করে বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক? কিভাবে সিঙ্গার কি এত টাকা দেয় ? দুদকের কাছে খতিয়ে দেখার জোর দাবী এলাকাবাসীর।

রহিম উদ্দিন বলেন, আমি ২০০০ সাল থেকে সিঙ্গার শো-রুমে আছি। এরপর টেকনাফে দায়িত্ব পালন করি। বর্তমানে কক্সবাজারে বেঞ্জ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছি। এতে অনেক টাকার বেতন হয় আমার। এছাড়া আমার পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে অনেক। এতো কিছু থাকার পর কেন আমার অবৈধ ব্যবসা করতে হবে? আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সম্পত্তির বিষয়ে ষড়যন্ত্র হিসেবে আমার বিরুদ্ধে অনেকেই লেগে আছে। আমি কোন সময় অবৈধ ব্যবসায়ে জড়িত ছিলাম না।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দীন খন্দকার পিপিএম বলেন, মাদকের মামলা বা অভিযোগ নেই এমন অনেকেই মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে। আমরা তাদের নজরদারীতে রেখেছি। খরুলিয়া এলাকার অনেকেই বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে মাদকের সাথে জড়িত বলে তথ্য রয়েছে। নিয়মিত অভিযানে আমরা অনেকজনকে আটকের পর আদালতে চালান দিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে সবাইকে আটক করা হবে।

Comments Below
  •  
    183
    Shares
  • 183
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ