মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

জিলহজ মাসের আমলসমূহ দলীলসহ জেনে নিন

  • সময় রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৯
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

মহা ফযিলতময় জিলহজ মাস। এই মাসের প্রথম ১০দিন ইবাদতে বান্দার অধিক সওয়াব অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মৌসুম। . কুরআন ও বিভিন্ন হাদীসে এই ১০দিনের ফযীলত সুপ্রমাণিত। এই দশদিনে যে আমলগুলোর কথা হাদীসে এসেছে, তা দলীলসহ নিম্নে প্রদত্ত হলো

১। বেশী বেশী যিকির করা . বেশী বেশী সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পাঠ করা। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) এরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে জিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনোদিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা সেই দিবসগুলোতে অধিক পরিমাণে তাহলীল(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর(আল্লাহু আকবার)ও তাহমীদ(আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করো।–ত্বাবারানী, হাদীস নং: ১১১১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং: ৫৪৪৬ .

২। চুল, নখ, মোচ ও অন্যান্য পশম না কাটা . যারা কুরবানী করবে তাদের জিলহজ্বের ১ তারিখ তথা জিলক্বদের শেষ দিনের সূর্যাস্ত থেকে১০ জিলহজ্বের কুরবানীর পূর্ব পযন্ত চুল, নখ, মোচ ও অন্যান্য পশম না কাটা। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্নিত- নবী কারীম (সা.) বলেছেন, যখন জিলহজ্বের দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩ . অনুরুপভাবে যারা কুরবানী করতে সক্ষম নয় তারাও এগুলো কাটা থেকে বিরত থাকবে। এর দ্বারা তারাও পরিপূর্ণ কুরবানীর সাওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ্। . হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্নিত- নবী কারীম (সা.) বলেছেন,আমাকে কুরবানীর দিবসে ঈদ (পালনের) আদেশ করা হয়েছে। যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক সাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে (অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী) আমি কি তা কুরবানী করতে পারি? নবী কারীম (সা.) বললেন, না, তবে তুমি চুল, নখ ও মোঁচ কাটবে এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫ . মোটকথা, কুরবানীদাতা এবং কুরবানী করতে অক্ষম উভয়েই এই দশকে চুল, নখ ইত্যাদি কাটবে না। কুরবানীদাতার জন্য তা সুন্নত এবং কুরবানী করতে অক্ষম ব্যক্তি এর দ্বারা একটি পরিপূর্ণ কুরবানীর সাওয়াব পাবে। তবে কুরবানীদাতার জন্য এটা একটা তাকীদপূর্ণ সুন্নত।
উল্লেখ্য যে, এই আমল করতে হলে জিলকদের শেষ দিকে চুল, নখ ইত্যদি কেটে নিবে অন্যথায় তা অনেক বড় হয়ে যাবে যা খিলাফে সুন্নত।

৩। জিলহজের প্রথম নয় দিন রোযা রাখা . এই দশকের আরেকটি গুরুত্তপূর্ন আমল হল প্রথম নয় দিন রোযা রাখা। হাদীস শরীফে বর্নিত আছে- রাসূলে কারীম (সা.) জিলহজের প্রথম নয় দিন, আশুরার দিন, প্রতি মাসে তিন দিন এবং মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন।- সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং:-২৪৩৯। . অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন- জিলহজের দশ দিনের চেয়ে অধিক প্রিয় এমন কোন দিন আল্লাহর নিকট নেই। যে দিন আল্লাহ তাআলা তার জন্য ইবাদত করা পছন্দ করেন। এই দিনগুলোর প্রতি দিনের রোযা এক বছর রোযা রাখার সমান। এবং প্রতি রাতের নামাজ লাইলাতুল কদরের নামাজের সমান।– জামে তিরমিযী হাদীস নং: ৭৫৮। . বিশেষভাবে ৯ই জিলহজ রোযা রাখা জিলহজের নয় তারিখে রোযা রাখা মুস্তাহাব ।এই দিন রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা পূর্বের ও পরের মোট দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। হযরত আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন- আরাফার দিন (৯জিলহজ্ব) রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা এর আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪২৫ . তবে হাজিদের জন্য এই দিন রোযা না রাখা মুস্তাহাব।- সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১২৩ . মাসআলাঃ কুরবানীর দিন ও তার পরের তিন দিন রোযা রাখা হারাম।

৪। এই দশকের রাতগুলোতে সাধ্যমত ইবাদত করা . এই রাতগুলোতে বেশী বেশী নামায, তেলাওয়াত, জিকির ও তাসবীহ-তাহলীল পড়া। একাধিক হাদীসে এই রাতগুলোর বিশেষ ফযীলত বর্নিত হয়েছে।-শুআবুল ঈমান হাদীস নং: ৩৭৫৮ . ৫। তাকবীরে তাশরীক পড়া . মাসআলাঃ ৯জিলহজ ফজর থেকে ১৩জিলহজ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। পুরুষ- মহিলা, মুকীম-মুসাফির, একাকি নামায পড়া ব্যক্তি ও জামাতে নামায পড়া ব্যক্তি সকলের উপরেই ওয়াজিব। তাকবীরে তাশরীক এই– . الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلاالله والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد . –মুসান্নাফ ইবনে আবী শাই

লেখক : হযরত মাওলানা হাফেজ শরীফুল ইসলাম পূর্ব গোয়ালিয়া পালং রামু কক্সবাজার

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares