মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

মটর শ্রমিকলীগের দুই ইয়াবা ডন দিদার ও হারুনঃ একজন কক্সবাজার অন্যজন ঢাকায়

  • সময় শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ক্রাইম প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার বড় মহেশখালীর ফকিরাকাটা গ্রামের হারুন অর রশিদ হারুনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। হারুনের মাদক কারবারের বিরুদ্ধে ডিএমপি কমিশনার ঢাকা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে দায়ের করা এক অভিযোগের রিসিভিং কপির মাধ্যমে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগের সুত্রমতে, কক্সবাজার বড় মহেশখালীর ফকিরাকাটা গ্রামের মোসা আলীর পুত্র হারুন অর রশীদ। সে ঢাকা কুড়িল বিশ্বরোড সাব্দ মৌছা সিটি সেন্টারের মালিকের গাড়ীর ড্রাইভার ছিল। গাড়ীর ড্রাইভার থাকাকালীন কক্সবাজার খরুলিয়ার মৃত দানু মিয়ার পুত্র দিদারুল আলমের সাথে সেন্ডিকেট করে শুরু করে ইয়াবার রমরমা কারবার। হারুন ইয়াবাসহ ঢাকা ডিবির হাতে আটক হলে ৬মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসে। মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সাব্দ মৌছা কর্তৃপক্ষ হারুনকে চাকুরী থেকে বহিষ্কার করে দেয়।

কক্সবাজারে দিদার ঢাকায় হারুন, চলে রমরমা মাদকের কারবার। দিদারের চট্ট মেট্রো -গ ১১-৮৪০৫ নোহা গাড়ীর মাধ্যমে বিশেষ কৌশলে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান পৌছে যায় হারুনের কাছে। হারুন জেল থেকে বের হয়ে বায়িং হাউজের ব্যবসার অন্তরালে কাপড়ের চালানের মাধ্যমে বিদেশে ইয়াবার চালানও পাঠায় বলে উল্লেখ করেন উক্ত অভিযোগে।

হারুন অর রশিদ হারুন নিজেকে জাতীয় শ্রমিকলীগ ঢাকা মহনগর উত্তরের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মটর শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি দাবী করে আওয়ামী নেতাদের সাথে ছবি তুলে তার মাদকের কারবার লুকানোর জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের দিদারুল আলম দিদার কে কক্সবাজারের মটর শ্রমিক লীগের সভাপতি বানিয়ে ইয়াবার বদৌলতে দুই হাইব্রিড নেতার যোগসুত্র চলছে প্রকাশ্যে।

অভিযোাগে সংযুক্ত হারুনের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৯১২-৫৬৭০১৭, ০১৮৭১-৪৬৪২৬০, ০১৭১০-৫৪৩৮৯৭, ০১৭৯৫-৭৮১৭১৩ নাম্বার গুলোতে অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক একাধিকবার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সে বর্তমানে কক্সবাজার গা ডাকা দিয়ে আছে বলে জানা গেছে।

সুত্রে জানাযায়,  কক্সবাজার খরুলিয়ার দানু মিয়ার পুত্র দিদারের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দিদার কক্সবাজারের বাইরে দুইবার ইয়াবা সহ আটক হওয়ার তথ্যও রয়েছে উক্ত অভিযোগে।  দিদারের মামলার নতী বিশ্লেষনে  পাওয়া যায় ২০০৭ সালে তার বিরুদ্ধে চাদাবাজী ও দস্যূতার অপরাধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা হয় যার নং- ৪৪। ধারা- ১৪৩,৪৪৮,৩৮৫ ও ৩২৩।

২০১১ সালে ডাকাতী করতে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে তুমুল মারামারিতে অনেকজনকে গুরুতর জখম এবং ডাকাতীর অপরাধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় মামলা নং ৭০।ধারা- ১৪৩,৪৪৮,৩২৩ ও ৩০৭। ২০১১ সালে আবারো ডাকাতী করতে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে তুমুল মারামারিতে অনেকজনকে গুরুতর জখম এবং ডাকাতীর অপরাধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় মামলা নং- ৩৪। ধারা- ৩৯৫ ও ৩৯৭। ডাকাতীর স্থান ছিল খরুলিয়ার মুক্তারকুল। ২০১৮ সালে হত্যার উদ্দেশ্যে মানুষ মারার অপরাধে তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা হয় যার মামলা নং-১০। ধারা- ৩৪১,৩২৫,৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬, এবং ৩৪। অভিযোাগে সংযুক্ত দিদারের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৮৫১-৬১৬৬১৬, ০১৭৯৩-৫১৩০৬০ নাম্বার গুলোতে অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক একাধিকবার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই ব্যাপারে সাব্দ মৌছা গ্রুফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টির সত্যতা প্রকাশ করে বলেন, হারুন আমাদের চেয়ারম্যানের গাড়ী চালাতো। সে একদিন ইয়াবা নিয়ে ঢাকা ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয় এবং সে একজন মাদক কারবারী হিসেবে আমাদের কাছে প্রমাণ মিলে তাই তাকে চাকুরী থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় সুত্রে জনান, গত ৬ মে ১৯ তারিখ আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সুত্রে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন। কক্সবাজার সদর থানা সুত্রে জানান, মাদককারবারীদের কারো নিস্তার নেই। সে যেই হোক তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares