মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৯
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্টঃ

ঢাকার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে কক্সবাজারেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বুধবার জেলা সদর হাসপাতালে আরও ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। আর সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হল। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

সরকারি হিসেবে,জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৯ জনের মধ্যে সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ জন। এবং বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৫ জন। তাদের প্রত্যেকের অবস্থাই উন্নতির দিকে। এমন তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

অপরদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে কক্সবাজারে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র বলছে, গত শনিবার বেলা দুইটায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদে একইদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কক্সবাজারের মেয়ে উখিনো নুশাং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এরপরই ২৮ জুলাই ডেঙ্গু মনিটিরিং টিম গঠন করা হয়।

এদিকে জানা গেছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ২৯ জন। তাদের মধ্যে ১৪ বাড়ি ফিরেছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন ১৫ জনের অবস্থার উন্নতির দিকে। তারা দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারবেন।যারা আক্রান্ত হয়েছে তাঁরা কক্সবাজারে বসবাস করে ঠিকই কিন্তু তারা সবাই ঢাকায় চাকরি করে কিংবা বেড়াতে গিয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান,হাসাপাতালে ডেঙ্গু সংক্রান্ত ফ্রী পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। আর ৪ সদস্যের ডেঙ্গু মনিটিরিং টিম গঠন সহ ৩ সদস্যের হেল্প লাইন গঠন করা হয়েছে।ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা নিরীক্ষা ও নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ জরুরি অবস্থায় সিসিইউ এবং আইসিইউ সুবিধা থাকায় চিকিৎসার সমস্যা হচ্ছে না ।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, হাসাপাতালে ডেঙ্গু সংক্রান্ত ফ্রী পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ডেঙ্গুগুলো এখানে করা হচ্ছে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে করিয়ে আনা হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা ভালো। কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সেক্ষেত্রে ঢাকা বা চট্রগ্রাম পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

অপরদিকে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগ বর্তমানে নিয়ন্ত্রনের মধ্যেই রয়েছে। এখন পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২জন আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ যাতে বৃদ্ধি পেতে না পারে সেজন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জনসচেতনামূলক কার্যক্রমসহ নানামূখী কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান,কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগ এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এই রোগটি যাতে মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে সে ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। ডেঙ্গু বিষয়ে শিক্ষার্থীসহ সর্বসাধারণকে সচেতন করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত করণের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা সরকার নির্ধারিত ফি রাখতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গু চিকিৎসা বাবদ নূন্যতম ফি রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৪ জন মারা গেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকায় বসবাসকারীরা। শুধু ঢাকা নয় বিভিন্ন জেলায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৪শ থেকে ১৬শ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মারা যায় আরো দুইজন ডাক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও মারা যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসচিবের স্ত্রী মারা গেছে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares