শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ১০:১৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

অনিয়মই নিয়ম কক্সবাজার আদালতে !

  • সময় বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার আদালতে বেঞ্চসহকারি থেকে শুরু করে জিআরও, সেরেস্তাদার, পেশকার কিংবা পিয়নকে সন্তুষ্ট করতে না পারলে মামলা দায়ের, জামিন আবেদন এবং বেইল বন্ড গ্রহণ করা হয়না। এতে আইনজীবী ও বেঞ্চসকারিসহ সংশ্লিদের মাঝে বাকবিতান্ডের ঘটনা ঘটেছে। টাকা নেয়ার আইনগত কোন নিয়ম না থাকলেও এখন এ অনিয়ম-ই নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ নবীন আইনজীবীদের। অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

তারা দ্রুত এ অবস্থার উত্তোরন দাবি করেছেন। তবে জেলা বারের দুর্বল নেতৃত্ব এ অবস্থার জন্য দায়ি বলে মনে করেছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের দেয়া তথ্য মতে, জিআর মমালায় ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিনের দরখাস্ত জমা দিতে গেলে জিআরওকে দিতে হয় ২৫০ টাকা, হাজতীর জন্য বেইল বন্ড জমা দিতে গেলে ৪০০ টাকা, নথি দেখতে ১০০ টাকা টাকা দিতে হয়। সিআর মামলার ক্ষেত্রে জামিনের দরখাস্ত জমা দিতে ১০০ টাকা বেইল বন্ড ৩০০ টাকা, সেল ঘরে হাজতীকে পুলিশের সীটে বসাতে চাইলে ৫০০০ হাজার টাকা দিতে হয়। জজ কোর্টে- ফৌজদারি মিচ মামলার ক্ষেত্রে বেইলবন্ড জমা দিতে গেলে সেরেস্তাদারকে ৫০০ টাকা, পেশকারকে ১০০ টাকা, স্টোনোগ্রফারকে ১০০ টাকা এবং কর্মচারীকে দিতে হয় ১০০ টাকা। এছাড়া এসটি মামলার জামিনের দরখাস্তের ক্ষেত্রে সেরেস্তার ২০০ টাকা, পেশকার ২০০ টাকা দিতে হয়। নথি দেখলে ১০০ টাকা একটি ফৌজদারি মিচ মামলা দায়ের করতে গেলে বেঞ্চ সহকারিকে ৩০০ টাকা দিতে হয়। অথচ এসব টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই।

বাংলাদেশের প্রত্যেক আদালতে এমনটা রয়েছে দাবি করে আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতারা বলেন, একদিনে এসব সমস্যা সমধান করা সম্ভব না। তবে আমরা চেষ্টা করেছি বিষয়টি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে। এ ব্যাপারে জেলা আদালতের বিভিন্ন সভায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শুন্য। উল্টো এখন বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, সেবা প্রার্থীরা যেন ভোগান্তিতে আমি দায়িত্ব থাকা অবস্থায় চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলাম। সে কমিটি বিষয়টি তদারকি করতো। তবে এখন নাকি টাকা বেশি নিচ্ছে শোনলাম। বিষয়টি বর্তমান সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ভালভাবে দেখভাল করছেন বলে আশা করছি।

এদিকে, জেলা বারের অদক্ষ নেতৃত্ব এ জন্য দায়ি বলে মনে করছেন নবীন আইনজীবীরা। তাদের মতে, দুর্বল নেতৃত্বকে পুঁজি করে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এ সমস্যা দ্রæত সমধান করা না গেলে দিন দিন আরো জটিল আকার ধারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে কথা বলতে চাই না পেশকারসহ সংশ্লিষ্টরা। ফলে আইনজীবীদের সাথে বিভিন্ন সময় বাকবিতান্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু কোন সমধান হচ্ছে না।

তাদের মতে, মানুষ বিপদে পড়ে আদালতে আসে। অনেক বিচারপ্রার্থী জায়গা জমি গৃহপালিত পশু পাখি বিক্রি করে আমাদের মামলার খরচ দেয়। অথচ আমরা তাদের হয়রানি করছি। এটি কোনভাবে কাম্য নয়।

তারা বলেন, আইনজীবীরা এখন উভয় সংকটে। সেবাপ্রার্থীদের যেমন মন রক্ষা করতে হচ্ছে, তেমনি অপরদিকে বেঞ্চ সহকারিদেরও মন রক্ষা করতে হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রশিদ আমিন সোহেল বলেন, বেশিরভাগ আইনজীবী বেঞ্চে টাকা নেয়ার বিষয়টি অভিযোগ করলেও সুনির্দ্দিষ্টভাবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেনা। ফলে আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছি না। সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। তবে আমাদের কাছে আসা তথ্যের যাচাই বছাই করছি।

টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জানান, আমি মনে করি এ অনিয়ম একেবারই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যে আমরা অনেকবার বৈঠকও করেছি। আগামি সপ্তাহে জেলা ও দায়রা জজ মহোদয়ের ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে পৃথকভাবে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আশা করি একটা পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবো।

তবে, তিনি শুধু পেশকার, জিআরও, সেরেস্তাদার, পিয়নকে একছত্রভাবে দোষারোপ না করে আইনজীবীদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে অনেক সময় আইনজীবী সহকারিরা প্রতিযোগিতামূলক ঘুষ দিয়ে থাকে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares