শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

সিরাজ গাড়ীর হেলপার থেকে বর্তমানে ৫০ কোটি টাকার মালিকঃ র‌্যাবের নজরদারী জরুরী

  • সময় শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯
  • ২৬৬৭ বার পড়া হয়েছে

নাজিম উদ্দিন, কক্সবাজারঃ
জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অ-বৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে দুর্নিতি দমন কমিশন সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমুহ তৎপর থাকলেও ,প্রশাসনের গতিবিধির দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তাদেরই নাকের ডগায় দেশ তথা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুর্বের চেয়ে আরও সক্রিয় কক্সবাজার জেলার কতিপয় ইয়াবা কারবারী।

নিত্য নতুন কৌশল পাল্টিয়ে, টাকায় পাচারকারী ভাড়া করে প্রতিনিয়ত ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে চিহ্নিত ইয়াবা ডনেরা। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় বাসটর্মিনাল এলাকার ৬নং পৌরসভার ডিক্কুল গ্রামের মৃত আবদু শুক্কুরের পুত্র সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ (চন হানা-সিরাজ) র্শীষ ইয়াবা ডনদের মধ্যে একজন।

কথায় কথায় বিভিন্ন মন্ত্রী, নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কের দহরম-মহরমের ফুলঝুড়িতে মত্ত এই ইয়াবা কারবারী নিদ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কারবার। অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, কয়েক বছর আগেও শাহ-আমিন সার্ভিসে চাকুরী করা সিরাজ ইয়াবা কারবার করে বর্তমানে ৫০ কোটি টাকার মালিক । চাদঁনী এন্টারপ্রাইজ ও নিজস্ব স্বর্নের দোকান এবং টেকনাফ-কক্সবাজার রুটে রয়েছে গাড়ী ব্যবসা। কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের বাধার মুখে অজ্ঞাত কৌশলে তড়িগড়ি করে ডিক্কুলে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ির নির্মান কাজ শেষ করে সিরাজ।

অভিযোগ সুত্রে আরো জানযায়, সিরাজ লাল ভাবী খ্যাত হাফসা আক্তারকেই বিয়ে করে তার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবার বড় বড় চালান পৌছে দেয়। বিজনেস ডিল থেকে শুরু করে ঢাকা ও চট্রগ্রামে বিভিন্ন বায়রাদের সামলান সিরাজের স্ত্রী হাফসা। ডিক্কুলস্থ কুইল্লামিয়ার ভাড়াটিয়া বাসায় ভাড়া থেকে সিরাজ ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে। স-চতুর সিরাজ বিশেষ কৌশলে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে বিধায় সাধারন লোকের বুঝার উপায় নেই যে সিরাজ একজন র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী।

সরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়,মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও জেলার পুলিশ প্রশাসনের কালো তালিকা ভুক্ত এই ইয়াবা কারবারী ২০১২ সালে র‌্যাব-৩ এর হাতে ইয়াবা সহ ধরা পড়ে। কক্সবাজার সদর, মতিঝিল থানা, মাদারীপুর থানা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলার আসামী এই সিরাজ খাস ও জুত মিলিয়ে হাপ-ডজন বাড়ীর মালিক। এলাকাবাসী জানান, ঝিলংজার দক্ষিন ডিক্কুলের একটি বাড়িতেই প্রায় প্রতিদিন ইয়বাসেবনের পসরা সাজান সিরাজ। বেশ কয়েকবার প্রশাসন অভিযান চালালেও মোড়ের স্থানীয় দারোয়ান ও দোকানদারদের সহয়তায় সিরাজ পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে বলে জানান তার ঘনিষ্টদের কয়েকজন। জেলার বিশিষ্ট এক চাউল ব্যবসায়ী জানান সাম্প্রতিক পৌরসভার টুল ইজারায় প্রতিযোগীতাকালীন সিরাজ প্রায়-৬৫ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার ড্রপ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন । পরবর্তীতে পৌরসভার অবমুক্তিকালীন পে -অর্ডার সমুহ জ্বাল হিসেবে স্বীকৃত হলে-যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা স্বীকার করেন পৌরসভার এসেসর কবির আহাম্মদ।

সাবেক ছাত্রনেতা ও পৌরসভার পেতাসওদাগর পাড়া- সিবিও সচিব, হেলালের নিকট সত্যতা জানতে চাইলে তিনি জানান, সিরাজ আমার চাচাতো ভাই ,ভাইদের সবার চাইতে জন্মগতভাবেই অর্থ-বৃত্ত আমারই বেশী ছিল কিন্তু আমার বাড়িতে টিনের চালায় ভিতরে এখনো বৃষ্টি পড়ে। আর আমার ভাই সিরাজ মাশে-আল্লাহ বর্তমানে কোটি টাকার মালিক । নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন জানান- বাস টার্মিনাল ও ডিককুলের অধিকাংশ পাইকারী ও খুচরা ইয়াবা বিক্রেতাগন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সিরজেরই সৃষ্টি। যেমনঃ নুরুচ্ছফা,ছৈয়দ হোসেন ,কামাল হোসেন প্রমুখ উল্ল্যেখযোগ্য।
বর্তমান সরকারের মাদক নির্মুলের অংশ হিসেবে অধিাকাংশ মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ও ভিটা বাড়ী ছেড়ে পলাতক থাকার পরও জেলার চিহ্নিত এই মাদক কারবারী কিসের অনুবলে তার স্বাভাবিক ইয়াবা কারবার অব্যহত রেখে -বিলাস বহুল দিনাতিপাত করছে ? তা কেবলই প্রশাসনিক পৃষ্টপোষকতার দিকেই আঙ্গুলি নির্দেশ করে জেলার সচেতন মহলেরা।

অনুসন্ধানী তথ্যমতে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ও সড়ক পথে বিভিন্ন সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার ইয়াবার চালান যায়।
তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন দক্ষিন ডিক্কুলের বার্মায়া আব্দু রহমানের ছেলে কোরবান আলী (২৩) ও তার মা। উত্তর ডিক্কুলের মৃত ইসমাইলের ছেলে আবু বক্কর প্রকাশ ধলু। ছৈয়দ হোসেন, ইয়াসিন, কামাল, ধলা মিয়া, খালেক সহ আরো অনেকেই। বিভিন্ন সময় তারা ইয়াবার চালান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ে। তবে নেপথ্যের নায়ক সিরাজ ও তার বউ রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এলাকাবাসীর দাবি,দেশে প্রচলিত আইন যদি হয় সবার জ্ন্য সমান,সেক্ষেত্রে সিরাজের অ-বৈধ সম্পদ অর্জন সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শ্রম-বিমূখ করবে বলে মন্তব্য তাদের। দুর্নীতিদমন কমিশন দুদকের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও জেলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমুহের দ্রুততর গৃহীত উদ্যোগ এইরুপ ইয়াবা-কারবারীদের নিধনে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন জেলা ও টার্মিনালের সচেতন মহল।। এই ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার জানান, যে কোন ধরনের ইয়াবা কারবারী আমাদের হাত থেকে রক্ষা পাবেনা। আমাদের অভিযান অব্যহত আছে। যে কোন সময় ধরা পড়তেই হবে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares